কন্টেন্টই আসলঃ ই-কমার্স ওয়েবসাইটে ভিজিটর আনার টিপস

542

আপনি যদি ই-ক্যাব ব্লগে আমার আগের লেখাটি পড়ে থাকেন তাহলে নিশ্চয় জানেন যে ই-কমার্স ওয়েবসাইটে ভিজিটর আনার জন্য কিছু টিপস নিয়ে ধারাবাহিক ভাবে ৮-১০ পর্ব লিখবো। আজকে এর দ্বিতীয় পর্ব এবং এবারে আমি কন্টেন্টের বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা করবো।

প্রথম পর্ব পড়ুন এখানেঃ ই-কমার্স ওয়েবসাইটে ভিজিটর আনার জন্য কিছু টিপস

কন্টেন্ট কি তা নিয়ে মনে হয় বিস্তারিত আলোচনা করার দরকার নেই। কন্টেন্ট বলতে অনেকেই টেক্সট বুঝে থাকলেও ছবি (ইমেজ), অডিও, ভিডিও এগুলোও কন্টেন্টের ভেতরেই পড়ে। অডিও এবং ভিডিও নিয়ে সামনের কোন এক পর্বে বিস্তারিত আলোচনা করবো, তাই এখানে আমি মূলত টেক্সট এবং ইমেজ নিয়েই সীমাবদ্ধ থাকবো।

কোন অনলাইন শপিং সাইট বা ষ্টোরের জন্য কন্টেন্ট মানে শুধু প্রোডাক্ট স্পেসিফিকেশন বা প্রোডাক্ট ডেসক্রিপশন এ ধরনের চিন্তা থেকে আমাদের বেরিয়ে আসা উচিৎ। আমাদের দেশে ই-কমার্স সাইটেই কমন কিছু পন্য পাওয়া যায়। দেখা যায় যে চীন থেকে এসব পন্য আনা হচ্ছে এবং তারপর একই ছবি এবং একই বর্ণনা থাকে। বেশীরভাগ ওয়েবসাইট মালিক কন্টেন্ট এর উপর খুব একটা গুরুত্ব দেন বলে আমার মনে হয়না। এর কারণ কি তা জানি না। এটি নিয়ে খুব ভাল একটা সার্ভে হতে পারে। তবে বাজেট একটা বড় কারণ বলে মনে হয় আমার কাছে। একই সঙ্গে কন্টেন্ট লিখতে দক্ষ ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের অভাব এ দেশে- অনেকেই একথা বলেছেন আমাকে। যারা অনলাইন শপিং সাইটের মাধ্যমে বিদেশে পন্য রপ্তানি করতে চান তাদের কন্টেন্ট এর ব্যপারে মনোযোগী হতে হবে।

খুব বেসিক একটা কথা হল আপনার ওয়েবসাইটের About, Contact, Terms and Condition, Help, How to Buy এসব পেইজের কন্টেন্ট যেন ভাল থাকে। না হলে আপনার ক্রেতারা ঝামেলার সম্মুখীন হবেন এবং দ্বিতীয়বার আসতে খুব একটা উৎসাহী হবেন না।

সবচেয়ে বড় সমস্যা হল কন্টেন্ট গাইডলাইন নিয়ে খুব কম ই-কমার্স কোম্পানি চিন্তা করে। অথচ আপনি যখন কোন ওয়েবসাইটে কিছু কেনার জন্য ভিজিট করেন তখন কি খুঁজেন? পছন্দের পন্য সম্পর্কে তথ্য ও ছবি। আপনি দাম জানতে চান, রঙ, সাইজ সহ অন্যান্য তথ্য অবশ্যই জানতে চান। আর আমার মনে হয় সবচেয়ে বেশি জানা দরকার এই পন্য আমি কেন কিনবো বা এই পন্য কাদের জন্য বেশি দরকার। আপনি আপনার ১৫ বছরের মেয়ের জন্য জুতা অথবা কোন গহনা কিনতে চান। এখন যে ই-কমার্স ওয়েবসাইটে ১৫-১৬ বছরের মেয়েদের পন্য সম্পর্কে তথ্য দেয়া আছে তা কিনতে নিশ্চয়ই বেশি ভরসা পাবেন।

সবার আগে আপনার ওয়েবসাইটের জন্য কন্টেন্ট গাইডলাইন ঠিক করার চেষ্টা করুন। হয়তো একদিনে কাজটি হবেনা। এক মাস সময় নিয়ে, চিন্তা করে, বিভিন্ন ওয়েবসাইট ঘেঁটে একটা গাইডলাইন বানান। ঠিক করুন প্রতিটি পন্যের বিবরণ, ছবি, বর্ণনা এসব কিভাবে দিবেন। বাড়তি কি ধরনের তথ্য দিবেন। একটু বাড়তি চিন্তা করুন। ধরুন মেয়েদের জুতা বিক্রি করছেন। কোন নায়িকা, গায়িকা, ফ্যাশন মডেলের জুতার দিকে লক্ষ্য করুন। আপনার জুতা সেই সেলিব্রেটির পড়তে হবে এমন নয়। কিন্তু কাছাকাছি ধরণের বা ডিজাইনের জুতা পরতে দেখলে আপনার জুতার নীচে এটি উল্লেখ করতে পারেন। তবে সব সময় সত্য কথা বলবেন এবং দেখবেন যে আপনার পন্যের আকর্ষণ অনেক বেড়ে যাবে। এবারের রোজার ঈদে পাখী ড্রেস নিয়ে মাতামাতির কথা কি ভুলে গেছেন?

আপনার যেসব প্রোডাক্ট জনপ্রিয় সেগুলো নিয়ে ইন্টারনেটে আরও তথ্য ও ছবি যেখানে আছে সেসব সাইটের লিংক দিতে পারেন। তাছাড়া ইন্টারনেটে (ইউটিউবে) যদি ভিদিও থাকে তবে ভিদিওর লিংকও দিতে পারেন (মোবাইল ফোন, ল্যাপটপ, গ্যাজেট ইত্যাদির বেলায় এ উপদেশ বেশি প্রযোজ্য)। ধরা যাক যে মডেলের ফোন বা ল্যাপটপ বিক্রি করছেন সেটি নিয়ে কারিনা কাপুরের একটি বিজ্ঞাপন আছে। সেই বিজ্ঞাপনের ভিডিও এমবেড করে দিতে পারেন। মানুষ মাত্রই সেলিব্রেটিদের ভক্ত। তাই আপনার পন্যের সঙ্গে কোন সেলিব্রিটি সম্পর্কিত থাকলে সেকথা উল্লেখ করতে ভুলবেন না।

 

কন্টেন্ট তৈরি করার সময় অবশ্যই গুগল বা সার্চ ইঞ্জিনের কথা মাথায় রাখবেন। এ নিয়ে আগামিতে একটা পুরো পর্ব লেখা হবে তাই খুব বেশি কথা বলব না।

তবে এটুকু বলতেই হবে যে আপনি ইউনিক কন্টেন্ট লেখার চেষ্টা করবেন সব সময়। আগেই বলেছি যে বেশ কয়েকটি শপিং সাইট হয়তো একই পন্য বিক্রি করছে। শুধু বাংলাদেশ নয় পৃথিবীর অনেক দেশের অনেক কোম্পানি চীন থেকে পন্য আমদানি করে অনলাইনে বিক্রি করছে। তাই যে গ্যাজেট বিশ্বের ১০০ টি দেশের ৫,০০০ ওয়েবসাইটে বিক্রি হচ্ছে সব সাইটেই একই বর্ণনা ও স্পেফিকিশেন দেয়া হচ্ছে। এজন্য ভাল হয় নিজের ভাষায় কিছু কন্টেন্ট যোগ করলে।

আপনার যদি টাকা থাকে তাহলে কন্টেন্ট লেখার জন্য কাউকে নিযুক্ত করুন অথবা কোন কোম্পানিকেও এই কাজ দিতে পারেন। আর না থাকলে নিজেই প্রতিদিন একটা করে প্রোডাক্ট নিয়ে কাজ করুন। অন্তত আপনার অনলাইন শপিং সাইটের যে ১০ টি পন্য চলে বা চলতে পারে সে গুলোর কন্টেন্ট এর পেছনে কিছু টাকা বা কিছু সময় ব্যয় করুন। আর কন্টেন্ট তৈরির সময় সবচেয়ে যে বিষয়টি মাথায় রাখবেন তাহল আপনার কন্টেন্ট কতখানি মানুষের কাজে লাগবে।

ছবি বা ইমেজের ব্যপারে আমি বলব অবশ্যই কিছু টাকা খরচ করুন প্রোডাক্ট ফটোগ্রাফির জন্য। যাই খরচ করবেন সেটিকে খরচ না মনে করে বিনিয়োগ হিসেবে চিন্তা করুন।

বাংলাদেশে এখন পর্যন্ত কোন অনলাইন শপিং সাইটের জন্য ভাল ব্লগ দেখিনি। আমি মনে প্রানে বিশ্বাস করি প্রতিটি অনলাইন শপিং সাইটের জন্য ব্লগ থাকা অত্যাবশ্যক। কেন সে বিষয়ে পরবর্তী পর্বে বিস্তারিত আলোচনা করবো।

আমার লেখার প্রথম পর্বে দারুন সাড়া পেয়ে আমি অভিভূত। খুবই ব্যস্ত থাকি তবে চেষ্টা করবো সপ্তাহে অন্তত ২ টা লেখা দিতে। এর পরের পর্বে ই-কমারস ওয়েবসাইটের জন্য ব্লগ থাকা কেন অত্যাবশ্যক তা নিয়ে বিস্তারিত লিখবো।

 

Comments

comments

No Comments

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *