একটি এসোসিয়েশন ও পারষ্পরিক সহযোগিতা

127

 

পারষ্পরিক সহযোগিতা

একটি এসোসিয়েশন কেন ঘটিত হয়? সংঘঠিত হওয়ার জন্য, নেটওয়ার্ক তৈরী করার জন্য, পারষ্পরিক সহযোগিতার জন্য। কিন্তু আমি যদি উল্টোটা বলি, সেটা হবে- নিজের ব্যবসার বুদ্ধি গোপন করে অন্যরটা নিয়ে কপি করার জন্য, কেউ যেন আমার উপরে না উঠতে পারে আমি যেন একা ব্যবসায় করে বড় হতে পারি সেজন্য, অথবা আমি যেন এদের কারো কাছে আমার প্রোডক্টটা শেষ পর্যন্ত সেল করতে পারি সেজন্য। হওয়ার কথা ছিলো প্রথম তিনটি উদ্দেশ্য হচ্ছে পরের তিনটি। ফলে এসোসিয়েশন করে আমরা ব্যবসায়িক ভাবে লাভবান হতে পারছিনা। যদিও কিছু ট্রেনিং, সেমিনার, মত বিনিময় হচ্ছে। এগুলোর প্রয়োজন নেই তা কিন্তু নয় কিন্তু শুধু এগুলো দিয়ে হয়তো মূল উন্নয়ন হবে না। মূল উন্নয়ন এর জন্য বাজার প্রবৃদ্ধি বাড়তে হবে, লেনদেন বাড়তে হবে কোয়ালিটি সেবা দিতে হবে। এজন্য একজন ই-কমার্স ব্যবসায়ী আরেকজন ই-কমার্স ব্যবসায়ীকে সহযোগিতার দৃষ্টিতে দেখবে। বাংলাদেশের এসোসিয়েশন গুলোতে বিভক্তির এই চিত্র যেন স্বাভাবিক হয়ে উঠেছে। সে তুলনায় হয়তো ই-ক্যাবের পরিবেশ বেশ ভালো।

কারণ সমজাতীয় ব্যবসায়ীও একজন আরেকজনকে সহযোগিতা করতে পারে। যেমন ধরুন আপনি ই-কমার্স ব্যবসায় করেন আরেকজনও আছেন ঠিক আপনার মতো। আপনাদের নিজস্ব ডেলিভারী টিম রয়েছে। এখন আপনারা কেবল ডেলিভারীর ব্যাপারে, পন্যের ব্যাপারে, মার্কেটিং টিপস এর ব্যাপারে সাইট ডেভলপমেন্ট এর ব্যাপারে একজন আরেকজনকে সহযোগিতা বা পরামর্শ দিতে পারেন। তাহলে ২জনের উপকার হবে উন্নয়ন হবে এবং বিক্রি বাড়বে আর তাতে গোটা ইন্ডাস্ট্রি উপকৃত হবে। যদি তার উল্টোটা হয় কেউ একজন একা একা বা আমরা প্রত্যেকে একা একা বড়ো কিছু করতে চাইলাম। কিন্তু এসব ক্ষেত্রে যেটা হয় আইডিয়া তাকা সত্বেও অনেকে টাকার জন্য আইডিয়া বাস্তবায়ন করতে পারেন না। অনেকে ভাল ম্যানেজমেন্ট বোঝেন কিন্তু তার হিউম্যান রিসোর্স ভালো না। অনেকের আবার এগুলো ঠিক থাকলেও মার্কেটিং নলেজ ও বাজার গবেষণা ঠিক নেই। আমরা যদি এই ৫টি দিকের কথাই ধরি। প্রথমত আমরা যে ৫ জন লোকের এই ৫টি গুন আছে তাদেরকে নিয়ে শুরু করতে পারি। অথবা এরকম ৫টি ফার্ম যাদের ভিন্ন ভিন্ন রির্সোস রয়েছে তারা পারষ্পরিক সহযোগিতার ভিত্তিকে কাজ করতে পারি।

ভাবছেন প্রতিযোগী প্রতিষ্ঠানের সাথে কাজ করতে গেলে, আমার আইডিয়া শেয়ারিং হয়ে যাবে, আমার কাস্টমার ডাটা চলে যাবে, আমার সিক্রেট জেনে যাবে, আমার কর্মীরা তার কোম্পানীতে চলে যাবে। বেশ ভালো কথা আমরা যদি এগুলো আগে জানি তাহলে সেভাবে তাহলে নিশ্চয় আমরা সেভাবে আমাদের কাজের পরিকল্পনা করতে পারি।

প্রথমত এই সমস্যাগুলো যেন না হয়ে সেভাবে বোঝাপড়া তৈরী করুন। দ্বিতীয়ত, আসলে তারপরও সমস্যাগুলো হতে পারে এবং বাংলাদেশে তা আরো বেশী হতে পারে। সেজন্য এই সমস্যাগুলো হলে আপনি কি করবেন তার প্রস্তুতি রাখুন। মনে রাখবেন আইডিয়া যিনি বানাতে পারে তার আইডিয়ার অভাব হয়না, আর কারো আইডিয়া কেউ নিয়ে গেলে তার মুল ব্যক্তির মতো করে বাস্তবায়ন করতে পারে না অনেক সময়। আর আসলে আপনি চাইলে আইডিয়া দিয়ে সম্পৃক্ত হতে পারেন কারো সাথে।  আর কাস্টমার ডাটা আপনি না দিলেতো যাবে না। এছাড়া আপনি চাইলে ডাটা দিয়ে ডাটা দিয়ে এক্সচেঞ্জ করতে পারেন। আর কাস্টমার ডাটা দিলেই কি কাস্টমার চলে যায়। আপনার সেবা ঠিক হলে কাস্টমার যাবে না আর গেলেও আবার আসবে। আর আপনার অবশ্যই কিছু বিজনেস তথ্য তারা জানবেই। তাছাড়া আপনি কেন সব তথ্য ওপেন রাখবেন যে, সবাই জানতে পারে সবচেয়ে মজার ব্যাপার হলো আপনি আপনার কোম্পানী এমনভাবে ফর্ম করুন যাতে এমন কোনো দূর্বল তথ্য না থাকে। যা অন্যরা জানলে আপনার ক্ষতি হতে পারে। আর কর্মীতো চাকরী ছেড়ে দিতেই পারে।

তারচেয়ে যারা একসাথে কাজ করবেন তাদের মধ্যে তো একটা চুক্তিপত্র হবেই। যে বিষয়গুলো নিয়ে আশংকা করছেন সেগুলো মাথায় নিয়ে চুক্তি করলেই হয়ে যায়। যদি একসাথে কাজ করতে চান।

আর যদি একসাথে কাজ না করেন। তাহলে মাঝে মধ্যে এক জায়গায় বসে পারস্পরিক সহযোগিতা বিনিময় করতেই পারেন।

লেখা: জাহাঙ্গীর আলম শোভন

Comments

comments

About The Author



Freelance Consultant, Writer and speaker . Jahangir Alam Shovon has been in Bangladeshi Business sector as a consultant, He has written near about 500 articles on e-commerce, tourism, folklore, social and economical development. He has finished his journey on foot from tetulia to teknaf in 46 days. Mr Shovon is social activist and trainer.

No Comments

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *