একটা ভাল ওয়েবসাইট করতে কত খরচ হতে পারে?

880
website_cost

সস্তা মানেই যে আপনি জিতে গেছেন তা কিন্তু না। অন্তত ই-কমার্স ওয়েবসাইট ডেভেলপমেন্ট বা ওয়েব বেসড সফটওয়্যার এর ক্ষেত্রে তো অবশ্যই নয়ই। “সস্তার তিন অবস্থা” বাংলাতে একটা প্রবাদ বাক্য আছে। আমার নিচের লেখা পড়ার আগে এটা অবশ্যই মাথায় রাখবেন।

মার্কেটে অনেক আই.টি ফার্ম আছে যারা আপনাকে ৩০০০ টাকাতেও ই-কমার্স ওয়েবসাইট করে দিবে। মনে রাখবেন ঠেলা গাড়ির দামে কখনই ফেরারি পাবেন না। আপনি যতটুকু খরচ করবেন ঠিক ততটুকুই পাবেন।

আপনি কিভাবে কাস্টমারকে আপনার ব্যবসাকে তুলে ধরতে চান? স্যুট টাই পরা প্রোফেসনাল লুক, নাকি সস্তা জিন্স শার্ট পরা লুক? ভাল আই.টি ফার্ম এর কাছে গেলে আপনি স্যুট টাই এর লুকই পাবেন, সস্তা খুজতে গেলে সস্তা জিন্স শার্ট পরা লুকই পাবেন আপনার ব্যবসার।

আর একটা কথা মনে রাখবেন দুইটা ওয়েবসাইট সল্যুশন কখনই এক হবে না, কারন দুইটা ব্যবসা কখনই এক না তাদের ব্যবসাইক চরিত্রে। আমরা এটাই ভুল করি ওয়েবসাইট করতে গিয়ে। বাজারে যে সব রেডি-মেড সল্যুশন আছে সেটাই নেই। যাদের অনেক আগে যাওয়ার প্ল্যান আছে তারা পরে গিয়ে তাদের ওয়েবসাইট পরিবর্তন করতে হয়। তাই খুবি দরকারি যেটা সেটা হল ব্যবসার আদ্যোপান্ত সব প্ল্যান করে ওয়েবসাইট তৈরি করা। আপনার বিজনেস অপারেশন কেমন হবে তার সাথে সামঞ্জস্য রেখে ওয়েবসাইট তৈরি করা উচিৎ।

নিচের লেখা শুধু তাদের জন্য যারা ই-কমার্স বিজনেস করবেন এবং করার মতন করবেন শুধু তাদের জন্য। যারা ই-কমার্স কে নিয়ে অনেক দূর যাওয়ার স্বপ্ন দেখেন শুধু মাত্র তাদের জন্য।

 

দেখুন আপনার কাস্টমারের কাছে অনেক অপশন আছে একটি মাত্র ক্লিক দুরত্তে। সুতরাং আপনার ওয়েবসাইট হতে হবে ফাস্ট, ইউজার ফ্রেন্ডলি, নিরাপদ ও সুন্দর দেখতে। ওয়েবসাইট ডেভেলপ করতে হবে প্রফেশনাল কোন ব্যাক্তি বা কোম্পানি থেকে।

যদি আপনি দীর্ঘ পরিকল্পনা নিয়ে ব্যবসাতে নামেন, তাহলে ওয়েবসাইট তৈরির আগে অবশ্যই নিচের বিষয় গুলো খেয়াল রাখতে হবে।

১) কাস্টমার বেসঃ

প্রথমেই আপনাকে একটা প্রজেকশন করতে হবে আগামী ২ বা ৩ বছরে আপনার কাস্টমার বেস কেমন হতে পারে, ওয়েবসাইটে কেমন ভিজিটর আসতে পারে ( এটা নির্ভর করবে আপনার মার্কেটিং এর উপর ), আপনার ডাটাবেস কত বড় হতে পারে ইত্যাদি। কারন আপনার ডাটাবেস যত বড় হবে আপনার ওয়েবসাইট তো ভারি হবে। আর এতে করে আপনার ওয়েবসাইট এর পারফরমেন্স খারাপ হতে থাকবে। অনেকেই প্রথমে একটা সস্তা ওয়েবসাইট দিয়ে শুরু করে কিন্তু কিছু দিন পর তাকে আবার নতুন করে ওয়েবসাইট তৈরি করতে হয়। এতে সময় ও টাকা দুটোই নষ্ট হয়। আমার পরামর্শ হল শুরুতেই একটা ভাল ওয়েবসাইট নিয়ে ব্যবসা শুরু করা ভাল।

২) ব্যবসাইক মডেলের সাথে সামঞ্জস্য পূর্ণ একটা ওয়েবসাইটঃ

প্রতিটা ব্যবসা ইউনিক। প্রতিটা ব্যবসার পরিকল্পনা, গঠন, আকার, ধরন ভিন্ন। তাই আমার পরামর্শ হল আমার ব্যবসার সাথে সামঞ্জস্য রেখে ওয়েবসাইট এর ডিজাইন করা। অনেক রেডি-মেড প্লাটফর্ম আছে এবং এসব প্লাটফর্ম দিয়ে অনেক ভাল ওয়েবসাইট করা যায়। কিন্তু একটু সাহস করে যদি নিজের মত করে ব্যাকএন্ড তা ডেভেলপ করা যায় তবে তা ভবিষ্যৎ এর জন্য ভাল হবে। এতে খারচ বেশি হবে কিন্তু ভবিষ্যৎ এর জন্য অনেক ভাল হবে।

৩) ডিজাইনঃ

সুন্দর ডিজাইন করা একটা ওয়েবসাইট সব সময় আপনার কাস্টমার ধরে রাখতে সাহায্য করে তেমনি আপনার প্রফেসনালিজমকে ফুটিয়ে তোলে। কিন্তু এটা করতে আপনাকে একটু ভালই খারচ করতে হবে। তবে খরচ কমানোরও উপায় আছে। যদি অন্য কোন ওয়েবসাইটকে কপি করেন। কিন্তু সেটা কি আপনার ব্যবসার জন্য ভাল হবে?

৪) ফাংশনালিটিঃ

একটা ওয়েবসাইটএর প্রধান দুইটা উপাদান দিয়ে তৈরি হয়, যাকে একটা ওয়েবসাইট এর “হার্ট” বলাযেতে পারেঃ ১) ওয়েব কান্টেন্ট ও ২) ফাংশনালিটি।

ফাংশনালিটি হতে পারে যেমনঃ কান্টেন্ট ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম, ইউজার অ্যাকাউন্ট থেকে সোশ্যাল মিডিয়া ইন্ট্রিগেশন ইত্যাদি। এই গুলো আপনার ব্যবসার সাথে সঙ্গতি রেখে ডেভেলপ করা ভাল। এতে করে আপনার ব্যবসা পরিচালনা করতে সুবিধা হবে ও ভবিষ্যৎ ঝামেলা থেকে মুক্ত থাকবেন। গাড়ি কেনার মতই ওয়েবসাইট ডেভেলপমেন্টএর খরচ, যত বেশি ফাংশনালিটি তত বেশি খরচ। এটাই আমরা অনেকে বুজতে চাইনা। সস্তা খুজতে গিয়ে পস্তাই।

উপরের আলোচনা থেকে নিশ্চয়ই একটা ধারনা করে পারছেন একটা ভাল মানের ওয়েবসাইট তৈরি করতে হবে আপনাকে একটু খরচ করতেই হবে। মনে রাখবেন আপনার ওয়েবসাইটই হল আপনার দোকান। যদি দোকান ভাল না হয় কোন দিন কাস্টমার ধরে রাখতে পারবেন না।

যেকোনো পরামর্শের জন্য আমার সাথে যোগাযোগ করতে পারেন।

অমিত রায়,

সি.ও.ও, হ্যাশট্যাগ,

0197 88 555 81, 017 98 405 405

www.hes.hashtaggroup.org

amit@hashtaggroup.org

Comments

comments

No Comments

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *