ই-ক্যাবের মেম্বার হলে কি লাভ?

ই-ক্যাবের মেম্বার হলে কি লাভ?

প্রথমদিকে এই প্রশ্নটি তেমন একটা ছিলো না। তবে এখন প্রায়ই এই প্রশ্নটি তোলা হয়। নতুনদের ই-ক্যাব নিয়ে আগ্রহের কারণে এমনটা হয়। প্রথম কথা হচ্ছে কারো ব্যবসা করার জন্য ট্রেড বডির মেম্বার হওয়া জরুরী নয় যেমনটি আইনগত অনুমতি বা ট্রেড লাইসেন্স জরুরী। অনলাইনে অনেকে আজকাল ট্রেড লাইসেন্স ছাড়াও ব্যবসা করছেন। সেক্ষেত্রে তিনি ই-ক্যাবের মেম্বারই হতে পারবেন না।

কেউ ই-ক্যাবের মেম্বার হলে নিজের সুবিধা বা লাভের জন্য ই-ক্যাবের মেম্বার হবেন এটাই সাধারণ ভাবনা। কারণ মেম্বারশিপের ২ বা ৩ হাজার টাকায় ই-ক্যাবের লাভবান হওয়ার কোনো সুযোগ নেই।

ই-ক্যাবের সদস্য হয়ে কি লাভ?

১। যেকোনো ব্যবসায়ী তার নিজস্ব বিজনেস এসোসিয়েশন এর মেম্বার হওয়ার মাধ্যমে তার গ্রাহক, ভেন্ডর ও সাপ্লায়ারদের এই বার্তা দেয় যে, তিনি একজন পেশাদার ব্যবসায়ী। তখন তার প্রতি সকলের বিশ্বাস তৈরী হয়।

২। ই-কমার্স একটি বিকাশমান খাত। সরকার সম্প্রতি ডিজিটাল কমার্স নীতিমালা ঘোষণা করেছে। এবং ই-ক্যাবের কাছ থেকে অনেক বিষয়ে পরামর্শ নিয়েছে। আপনিও ই-ক্যাবের সাথে যুক্ত থাকলে সরকারকে বিভিন্ন বিষয়ে মতামত দিতে পারবেন।

৩। বর্তমানে ই-পোস্টের সেবা নেয়ার জন্য ই-ক্যাবের মেম্বারশিপের প্রয়োজন হয়। সবক্ষেত্রে কিছুনা কিছু ইস্যু থাকে যেগুলো কোনো বিজনেস এসোসিয়েশন এর মেম্বার ছাড়া করা যায়না। ATAB এর সদস্য না হলে ট্রাভেল এজেন্সে খোলা যায়না, BASIS এর সদস্য না হলে বিজিনেসের ক্ষেত্রে অনেক সুবিধা পাওয়া যায়না। ই-ক্যাবের ক্ষেত্রেও এমন অনেক বিষয় আসছে। আপনি ই-ক্যাবের মেম্বার না হলে সুবিধাগুলো থেকে বঞ্চিত হতে পারেন।

৪। ই-ক্যাবের দুটি সদস্য কোম্পানীর মাঝে কোনো ভুল বোঝাবুঝি তৈরী হলে তা ইক্যাবের মাধ্যমে সমাধান করা যাবে।

৫। ই-ক্যাবের লোগো আপনার ব্রান্ডিং ডকুমেন্টস বা ওয়েবসাইটে ব্যবহার করলে ভোক্তা সাধারণ আপনার পন্য বা সেবা ক্রয়ের ক্ষেত্রে আপনাকে বিশ্বাস করবে।

৬। ই-ক্যাব হাজারো উদ্যোক্তা ও ব্যবসায়ীর একটা প্লাটফরম এতে যুক্ত থাকলে পরষ্পরের সাথে পরিচয়, নেটওয়ার্কিং এর মাধ্যমে বিজনেস বৃদ্ধি করা যায়।

৭। ই-ক্যাব একটি সামাজিক সংগঠনের মতো, মূল কমিটি ছাড়াও ইক্যাব ১৬ টি িস্ট্যান্ডিং কমিটিসহ বেশকিছু সাবকমিটি রয়েছে। এগুলোতে রয়েছে ই-ক্যাবের সদস্যরা। এভাবে ই-ক্যাবের বিভিন্ন কমিটিতে যুক্ত থেকে ইন্ডাস্ট্রির জন্য কাজ করার সুযোগ এবং নিজের নেটওয়ার্ক উন্নয়নের সুযোগ।

৮। ই-ক্যাব সারাবছর সেমিনার, আড্ডা, মিটআপ, পিকনিক, ওয়ার্কশপ ও বিভিন্ন ট্রেনিং এর আয়োজন করে থাকে। ই-ক্যাবের সদস্য হলে এসব যোগদানের ক্ষেত্রে সুবিধা পাওয়া যায়।

৯। ই-ক্যাবের কাছে রয়েছে বিভিন্ন ব্যবসায়ীর তথ্য ও গবেষণার ফলাফল। এসোসিয়েশন এর সাথে থাকলে এসব তথ্য জানা যায় যা ব্যবসায়ের বিভিন্ন সিদ্ধান্ত নিতে কাজে লাগে।

১০। ই-ক্যাব সরকারী বেসরকারী বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সাথে বিভিন্ন চুক্তি স্বাক্ষর করে থাকে। তাতে ই-ক্যাবের সদস্যদের জন্য বিভিন্ন সুবিধা নিশ্চিত করে। যেমন বর্তমানে এমটিবি বা মিউচ্যুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংক ই-ক্যাবের সদস্যের জন্য ডুয়েল কারেন্সি কার্ডে বিভিন্ন সুবিধা দিয়ে থাকে। এমন আরো অনেক সুবিধা রয়েছে।

ই-ক্যাব মেম্বার কিভাবে হতে হয়?

প্রয়োজনীয় ডকুমেন্টস

১। ই-ক্যাব অফিস থেকে সরবরাহকৃত আবেদন ফরম পূরণ করে জমা দিতে হবে?

২। আবেদন ফরমে ই-ক্যাবের ২ জন মেম্বারের প্রত্যয়ন থাকতে হবে।

৩। ২ কপি পার্সপোট সাইজের ছবি

৪। জাতীয় পরিচয় পত্রের কপি

৫। হালনাগাদ ট্রেড লাইসেন্স এর কপি

৬। ই-টিন সার্টিফিকেট

সদস্য হওয়ার নিয়ম?

প্রথমে: যিনি সদস্য হতে চান তিনি আবেদনপত্র সংগ্রহ করবেন। এবং সেটি পূরণ করে জমা দেবেন। সাথে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র।

দ্বিতীয়ত: ই-ক্যাব অফিস থেকে আবেদন পত্রের তথ্যসমূহ যাচাই বাছাই করা হয়। এবং আবেদনকারীর ওয়েবসাইট ও অফিস ভিজিট করা হয়। সবকিছু ঠিক থাকলে আবেদনকারীকে জানিয়ে দেয়া হয়।

তৃতীয়ত: আবেদনকারী ৩ হাজার টাকা ফি জমা দেন। এবং ই-ক্যাব অফিস তাকে সসদ্য নাম্বারসহ একটি সার্টিফিকেট দেন।

অন্যান্য

১. আবেদন করা মানে সদস্যপদ নয়। বিশেষ করে কোনো এমএলএম কোম্পানী ও অনলাইন সংবাদ মাধ্যম ই-কমার্সের আওতায় পড়েনা বিধায় তাদের সদস্যপদ দেয়া হয়না।

২. কোনো সদস্য নিয়মভঙ্গ করলে বা ভুল তথ্য দিলে বা তথ্য গোপন করলে তার সদস্যপদ বাতিল হতে পারে।

Jahangir Alam Shovon

921 total views, 11 views today

Comments

comments