ই কমার্স ম্যানার্স

554

ই কমার্স ম্যানার্স
জাহাঙ্গীর আলম শোভন

আমরা হরদম আদব- কায়দা, ভদ্রতা, শিষ্টাচার এসব নিয়ে নানা কথা শুনে থাকি। আবার বলেও থাকি ব্যক্তি জীবনে স্কুল কলেজে । অফিসে কর্মক্ষেত্রে নানা ম্যানার্স মেনে চলার টিপস পত্র-পত্রিকাতেও আসে। তাহলে ব্যবসা বানিজ্যের কিছু ম্যানার্স বা টিপস বা আচরণ বিধির ব্যাপার থাকতে পারে। এগুলো আসলে এক কথায় বললে আমরা সবাই বুঝি যে ভালো কথা বলতে হবে, হাসিমুখে চলতে হবে, ইতিবাচক ভাবতে হবে। কিন্তু বিষয়গুলো সুনিদিস্ট করে দিলে সুবিধা হয়কি , এগুলো তখন হয়তো কিছু কিছু আমাদের মনে পড়ে যায় আর আমরা সেটা এপ্লাই করি। অনেক সময় আমরা নিজে একটা বিষয় বুঝলেও অতো গুরুত্ব দিইনা কিন্তু অন্যরা যখন বলে তখন মনে হয় , না এ বিষয়ে আসলে আমার আরেকটু সিরিয়াস হওয়া দরকার। তাই আসুন কয়েকটা বিষয় শেয়ার করি।

ফেইসবুকে পোস্ট
১. বিভিন্ন বয়সের লোকেরা ফেইসবুক ব্যবহার করে এবং একই পরিবারের সবাই ফ্রেন্ডলিস্টে যুক্ত থাকতে পারে, হতে পারে আপনার পেইজেও তারা লিংকড। এজন্য পেইজবুকে পন্য বা মডেলের ছবি তোলার সময় শালীনতার বিষয় খেয়াল রাখুন। খেয়াল রাখুন আমাদের ধর্ম ও সংস্কৃতির কথাও।
২. ফেইসবুকে টেক্স ছবি ভিডিও যাই দেন না কেন? খেয়াল রাখবেন তা যেন কোন ব্যক্তি, গোষ্ঠি, সম্প্রদায়, পেশা বা কোনো এলাকার মানুষকে খাটো করে বা তাদের নিয়ে রসিকতা করে পোস্ট দেবেন না।
৩. মহিলা, উপজাতি, বৃদ্ধ, শিশু , প্রতিবন্দি কারো প্রতি হাস্যরস বা অবজ্ঞা হয় এরকম কিছু পোস্ট করবেন না।
৪. জাতীয় সম্মানের বিষয়গুলোর সাথে মার্কেটিংকে এমনভাবে জড়াবেন না। যাতে কোন বিতর্ক তৈরী হয়। আপনারা জানেন যে সর্বশেষ আদালতের এক রায়ে ওয়েলকাম টোন হিসেবে জাতীয় সংগীতের ব্যবহার করে ব্যবসা করা যাবে না বলে নির্দেশনা দিয়েছে।
৫. কোন বিজ্ঞাপনে জাতীয় ও ধর্মীয় কোন প্রতীক ব্যবহারে সতর্ক থাকুন। এগুলে নিচের দিকে দেবেন না। পায়ের কাছে দেবেন না। এবং বিকৃতভাবে উপস্থাপন করবেন না।
৬. বিশেষ করে জাতীয় পতাকা ব্যবহার করলে এর মাপ ও ব্যভহারবিধি নিয়ে অবশ্যই সতর্ক থাকুন।
৭. যে পেইজ ব্যবসার জন্য ব্যবহার করবেন, সেখানে রাজনৈতিক কোন পোস্ট দেবেন না। কোনো পোস্ট মন্তব্য করবেন না। পারতপক্ষে লাইক দেয়াও এড়িয়ে চলুন।
৮. অন্যের ছবি ব্যবহার না করা ভালো। যদি নেহায়েত ব্যবহার করতে হয় তাহলে তার পরিবর্তে নিজের সাধারণ ছবিও ভালো। এরপরও যদি ব্যবহার করতে চান। ছোট করে কাদের ছবি সেটা উল্লেখ করে দেয়াইভালে। আর ছবি ্িবরক্তকর কাটছাট স্টাইলে এডিট করবেন না।

ওয়েব সাইট ম্যানার্স
১. ওয়েব সাইটের ক্ষেত্রেও মার্জিত ছবি টেক্স ও ভিডিও ব্যবহার করুন।
২. ওয়েবসাইট এমনভাবে ডিজাইন করুন যাতে গ্রাহকের বুঝতে, পন্য বাছাই করতে, পন্য তথ্য পেতে, শপিং করতে সহজ হয়।
৩. পন্যের তথ্য সুন্দর ও গোছানো ভাবে দিন। ছবি তুলুন সুন্দর ও দৃষ্টিনন্দন ভাবে।
৪. আপনার অয়েবসাইট ভিজিট করার জন্য ধন্যবাদ দেয়ার সুযোগ রাখুন, রাখুন একটা ইজি কোয়ারী নম্বার। ভিজিট শেষ বা শপিং এর সময় ক্রেতাকে অনুসরণ করে ধন্যবাদ দিতে পারেন।
৫. পন্য কেনার সময় চ্যাটিং এ ব্যবস্থা থাকলে বিনয়ের সাথে করুন। ছোট ছোট লেখা দিয়ে করুন। ধন্যবাদ দিন, প্রশংসা করুন আপনার সাইটে তিনি এসেছেন তাই তাকে সম্ভব হলে কোনো সুবিধা দিন।
৬. যদি কোনো ফার্মকে দিয়ে ওয়েবসাইট ম্যানেজমেন্ট কাজ করান তাহলে তাদের সাথে ভালো ব্যবহার ও সুসম্পর্ক বজায় রাখুন।
৭. বিরক্তিকর কোনো সার্ভিস বা উপাদান ওয়েবসাইটে যেন না থাকে তা আগে থেকে নিশ্চিত করুন।

ফোনলাইন ম্যানার্স
১. যদি কাস্টমার ফোন করে, আপনার পরিচয় দিয়ে জানতে চান যে আপনি কিভাবে সাহায্য করতে পারেন।
২. বর্তমানযুগে কর্পোরেট ভাষায় পরিবর্তণ এসেছে কোম্পানী যত বড় হোক তার গ্রহীতা যদি একটি কমবয়সী মানুষ বা অশিক্ষিত রিক্সাওয়ালাও হয় তাহলে তাকে স্যার সম্বোধন করতে হবে। এটা মানার চেস্টা করুন।
৩. শুরুতে হালকাভাবে কাস্টমারের নামও কোথা থেকে বলছেন তা জেনে নিতে পারেন।
৪. আরো একটা জিনিস আলাপের এক ফাকে জেনে নিতে পারেন। তা হলো আপনার পন্য বা শপ সম্পেের্ক কোথা থেকে জেনেছেন। এটা আপনাকে বিজ্ঞাপন দেয়ার সময় ভাবনাও সাহায্য করবে।
৫. কাস্টমার যতই উত্তেজিত হোন. আপনি একই কায়দায় কথা বলুন। আপনি তাকে বলতে পারে ‘‘ সরি স্যার, আমি আপনার সমষ্যার সমাধান করছি। বেশী অবোঝা লোক হলে বলেন যে পরে আপনাকে জানাচ্চি বা পৌঁছে দিচ্ছি।
৬. যেকোন বিষয়ে যেকোন সমস্যা বুঝিয়ে বলুন। দোষ যারই থাকুক প্রথমে সরি বলুন। আন্তরিক সেবার প্রতিশ্রতি দিন।
৭. কোন কারণে তাঃক্ষনিক সমাধান করতে না পারলে বা কাস্টমার বেশী উত্তেজিত হলে, বিনয়ের সাথে বলুন আপনি তাকে পারে জানাচ্ছেন। এবং বিষয়টি বিস্তারিত জেনে বুঝে তাকে জানান।
৮. কোন কারণে লাইন কেটে গেলে, আপনি আবার ফোন দিন।
৯. কখনো বলবেন না, আপনি মিথ্যা বলছেন বলবেন আপনি হয়তো ভুলে গেছেন। কখনো বলবেন না, আপনি ভুল বলছেন, বলবেন আজি যতটুকু জানি ব্যাপারটা এই রকম, বা আমি নিজে দেখেছি ব্যাপারটা আসলে এই রকম হয়তো আপনার চোখে পড়েনি।
১০. কখনো বলবেন না, আপনি জানেন না। বলবেন যে আপনি জোনেন যে বিষয়টা এই ঘটে।
১১. সমাধানের আশ্বাস দিন , বলুন স্যার আমি এখনি দেখচি কি করা যায়।

ই মেইল ম্যানার্স
১. ইমেইল হচ্ছে পত্র যোগাযোগের আধুনিক মাধ্যম। কাই সেইল পাঠাতে সুন্দর ও সম্মনিজনক সম্ভোধন করুন। সালাম ও শুভেচ্ছা বিনিময় করুন।
২. যদি নতুন বা প্রথমবার হয় আপনার নাম পারিচয় দিয়ে শুরু করুন। দিতে পারেন কোম্পানী সম্পর্কে অল্প কথায় ধারণা।
৩. বিষয়টি নিয়ে আগে কখনো কারো সাথে আলাপ হলে সেটি উল্লেখ করুন।
৪. মেইল শেষ করার আগে আপনার নাম ফোন নাম্বার ও ইমেইল আইডি লিভুন।
৫. কাউকে ফেইসবুকে এড হওয়ার জ্যন্য মোবাইলে আবেদন জানলে লিংকটা শেয়ার করুন এবং আপনার একটা ছবিও দিতে পারেন।
৬. খুববেশী লম্বা মেইল পাঠানোর দরকার নেঈ। ুখুববেশী বা বড় এটাচ ফাইল দিয়ে বিরুিক্ত উৎপাদন করাও ঠিক নয়।
৭. ব্যবসায়িক যোগাযোগের ক্ষেত্রে চ্যাটিং ভাষা বা সংক্ষিপ্ত ভাষা ব্যবহার করবেন না।
৮. কোন এটাচ ফাইল দিলে তার নাম বিষয়বস্তু, তারিখ কোন ফরম্যাটে আছে এই বিষয়গুলো জানানো অতীব জরুরী। সম্ভব হলে সাইজও লিখে দিতে পারেন।
৯. একই কাজের জন্য প্রয়োজনীয় যত তথ্য আছে সম্ভব হলে সব এক মেইলে দিবেন।
১০. ক্উে কোনো ব্যাপারে মেইল পাঠালে, তার মেইল পেয়েছেন বলে একটি ধন্যবাদ মেইল পাঠান।

ইনবক্স বা চ্যাটিং ম্যানার্স
১, খুব জরুরী দরকার না হলে কারো ফেইসবুক ইনবক্সে মেইল দেয়ার প্রয়োজন নেই। কাস্টেমারের ক্ষেত্রে সম্ভব হলে আগেই জিজ্ঞেস করে নেবেন তার ইনবক্সে মেসেজ করবেন কিনা?
২. ইনবক্সে ছোট ছোট বাক্যে তথ্য লিখুন। কারণ আপনার মনে রাখা উচিত যে কেউ হয়তো মোবাইলে ভিজিট করে থাকতে পারে।
৩. লেখা পোস্ট করার আগে ভুলত্রুটি দেখে সেন্ড করবেন।
৪. কারো ব্যক্তিগত ব্যাপার বা ামেন কোন ব্যাপার যা তিনি বলতে চান না। সেটা নিয়ে তাকে প্রশ্ন করার দরকার রেই।
৫. কারো সাথে চ্যাট করার আগে তার প্রোফাইল ভিজিট করে তার সম্পর্কে একটু ধারণা পেতে চেস্টা রপারেন।

এসএমএস ম্যানার্স
১. এসএমএস পাঠাতে আপনার নাম সংক্ষিপ্ত করে লিখুন, লিখুন পরিচয়ও , অন্তত যে কোম্পানীতে আছেন তার নাম নিয়ে শুরু করুন।
২. এসএমএস শেষ করার আগে ধন্যবাদ দিন।
৩. এসএমএস সংক্ষিপ্ত করার জন্য শব্দগুলো এমনভাবে লিখবেন না যে কেউ কেউ বুঝতে অসুবিধা হবে।

পার্টি ম্যানার্স
১. কর্পোরেট কোনো পাটিতে গেলে নিজের পরিচয় দিন, অন্যের সাথে পারিচিত হোন।
২. হাসিমুখে কথা বলুন, অন্যদের ব্যবসা সম্পর্কে ২/১ কথা জানতে চান।
৩. আপনার সাথে কেউ থাকলে তাকে বা থাদেরকে অন্যের সাথে পরিচিত করান। পরিচিত করার সময় তার একটা প্রশংসা বাক্য বলুন।
৪. নিজের কার্ড উপহার দিন। নিজের ব্যবসা সম্পর্কে ২/৩ বাক্যে বলে শেষ করুন। অন্যকেউ কার্ড দিলে তা একনজর ২০/৩০ সেকেন্ড দেখুন। এবং যেকোন একটি বিষয় বিষয়ে প্রশংসা করুন। যেমন কার্ডটি খুব সুন্দর, আপনার নামটাতো বেশ, অথবা লোগাটা দরুন হয়েছে ইত্যাদি।
৫. পর্টিতে ২/৩ জন আলাদা আলাদা ফিস ফিস করবেন না। কাউকে দেখিয়ে দূর থেকে কোন কথা বলবেন না।
৬. এসব গেদারে কোনো নেতিবাচক বিষয় নিয়ে আেিলাচনা করবেন না।
৭. শেষ হওয়ার আগে আসবেন না। যদি আসতে হয়ে বিনয়ের সাথে বলে চলে আসতে পারেন।
৮. খাওয়াদাওয়া থাকলে এবটু চজি হোন, যদি এমন বোন খাবার থাকে যা আপনি আগে খাননি। এরকম কিঠু থাকলে সতর্ক থাকুন।
৯. পাটির জন্য পোষাক টাই ও মোবাইল বা হাতঘড়ির সাথে আরো গুরুত্বপূর্ণ হলো জুতা, চুল, ব্যাগ যদি থাকে এবং পারফিউম।
১০. মহিলা বা কোনো ভিআইপ থাকলে হ্যাংলার মতো তাকিয়ে থাকবেন না। একজন সাধারণ মানুষ মনে করে আচরন করুন।

সম ও সহব্যবসায়ীদের সাথে আচরণ
১. সবসময় অন্য ব্যবসায়ীর খোজখবর নেবেন, পরার্মশ নেবেন দেবেন এবং প্রশংশা ও শুভকামরা করবেন না।
২. একজনের দোষত্রুিট অন্য লোকের সাথে শেয়ার করবেন ন।
৩. আপনার ব্যবসা সম্পর্কে কেউ জানতে চাইলে যতটা সম্ভব বলুন।
৪. আপনি যদি বুঝতে পারেন কেউ মিথ্যা ইনফরমেশন দিচ্ছি তাহলে তার সাথে কিছু বলার দরকার নেই। আপনি নিজে বুঝে রাখুন।
৫. সমব্যবসায়ীদের সাথে সম্পর্ক ভালো রাখুন। মাঝে মধ্যে তার অফিসে যান।

এটা খুব সাধারণ ও প্রাথমিক ব্যাপার। কিন্তু সবকিছু এখানে আলোচনা করা সম্ভভ নয়। আপনি এগুলো মেনে চলার জন্য সিদ্ধাস্ত সিতে পারেন। আজই।

Comments

comments

About The Author



Freelance Consultant, Writer and speaker . Jahangir Alam Shovon has been in Bangladeshi Business sector as a consultant, He has written near about 500 articles on e-commerce, tourism, folklore, social and economical development. He has finished his journey on foot from tetulia to teknaf in 46 days. Mr Shovon is social activist and trainer.

No Comments

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *