ই-কমার্স ও মার্কেটপ্লেস

1312

ই-কমার্স ও মার্কেটপ্লেস

জাহাঙ্গীর আলম শোভন

আজ থেকে প্রায় ২২ বছর আগে অনলাইন ই কমার্স মার্কেটপ্লেস শুরু হলেও এতে সাফল্যের মুখ দেখতে ১০ থেকে ১৫ বছর ধরে অপেক্ষা করতে হয়েছে। পেমেন্ট মেথড উন্নয়ন, স্মার্টফোনের আবিষ্কার, ইন্টানেট এর দাম হ্রাস প্রভৃতিকারণে এগুলো জনপ্রিয় হয়েউঠেছে। কয়েকটি তথ্য দিলে এর একটা চিত্র ভেসে উঠবো।

বিভিন্ন সূত্রের তথ্যমতে বিশ্বখ্যাত কমার্স মার্টেক প্লেসগুলো ব্যবসার যে চিত্র দেখা যায় ২০১৫ চতুর্থ প্রান্তিকে অ্যামাজন লাভ করে ৪৮২ মিলিয়ন ডলার এবং এর পরের দুই কোয়ার্টারে অ্যামাজন লাভ করে ৫১৩ মিলিয়ন ডলার এবং ৮৫৭ মিলিয়ন ডলার। এই বছরের প্রথম ছয়মাসে অ্যামাজন ডট কম লাভ করেছে ১.৩৭ বিলিয়ন ডলার। ই-বে এবং অ্যামাজন  বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে বড় অনলাইন মার্কেটপ্লেস এবং গত বছরে দেশটির মোট অনলাইন রিটেইল সেলস এর ২৭% এসেছে এ দুটি মার্কেটপ্লেস থেকে। জনপ্রিয় ই-কমার্স নিউজ সাইট ইন্টারনেট রিটেইলার এ তথ্য প্রকাশ করেছে। মাত্র এক বছরের মধ্যে অনলাইনে ৪৬৩ বিলিয়ন ডলার  বা ৩ ট্রিলিয়ন আরএমবি পণ্য বিক্রী করেছে প্রতিষ্ঠানটি। মার্চ মাসে  আলিবাবার অর্থ বছর শেষ হয়। এ মাসের আরো ৮দিন বাকি থাকতে রেকর্ড গড়ল আলিবাবা। ২০২০ সাল নাগাদ অনলাইন রিটেইল ভারতের রিটেইল সেক্টরের জন্যে একটি বিশাল চ্যানেল হয়ে উঠবে। ২০২০ সালে দেশটির মোট রিটেইল সেলস এর ২৫% আসবে অনলাইন থেকে। গুগল এবং বিখ্যাত গ্লোবাল ম্যানেজমেন্ট কনসাল্টিং ফার্ম এ টি কার্নি যৌথভাবে প্রস্তুতকৃত এক রিপোর্টে এ কথা বলা হয়েছে।

বাংলাদেশে মার্কেটপ্লেস

আমাদের দেশে ফেসবুক আর গুগলেরে ব্যবহার বাড়লেও। অনলাইনে কেনাকাটার হার খুবই কম। প্রচুর উদ্যোক্তা ইতোমধ্যে ক্লাসিফাইড এড সাইট, মার্কেটপ্লেস, ফেসবুক এবং নিজস্ব ওয়েবসাইটের মাধ্যমে বাজারে প্রবেশ করেছে। কিন্তু অনলাইনে চার্জ দিয়ে লেনদেনে অনীহা, প্রত্যন্ত অঞ্চলে ডেলিভারী সমস্যা, ক্রেতাদের পন্যদেখে দরদাম করে কেনার প্রবণতা, এবং ক্লোসিফাইড এড সাইট ব্যবহার করে সুযোগসন্ধানী মানুষের কিছু প্রতারণার ঘটনায় ই কমার্স এবং মার্কেটপ্লেস এখনো মজবুত ভিত্তির উপর দাড়ায়নি। অনেক সেক্টরে ঘাটতি রয়েছে। একজন কাস্টমার ইন্টারনেটে লিখেন যে, আমি বেশ কিছুদিন যাবত একটা ল্যাবরেটরী টেষ্টের উপর গবেষনা করছি নিজ উদ্যোগে এবং অর্থায়নে . প্রায়ই আমি এই কাজের জন্য প্রয়োজনীয় ল্যবরেটরী রিএজেন্ট কিনতে হিমশিম খাচ্ছি সবকিছু বেচাকেনার জন্য যেমন বাংলাদেশী অনলাইন মার্কেটপ্লেস রয়েছে ঠিক তেমনি যদি ল্যব রিএজেন্ট বেচাকেনার একটা অনলাইন ফ্ল্যাটফর্ম থাকতো তাহলে নবাগত গবেষকরা অনেকদূর এগিয়ে যেতে পারত ।

ই কমার্স ও মার্কেটপ্লেস

মার্কেটপ্লেসগুলো ই কমার্সের জন্য কতটা ভালোমন্দ এই বিষয়ে বিভিন্ন মত রয়েছে।

মত ১: মার্কেট প্লেস ও ক্লাসিফাইড এড সাইটগুলো থাকার কারণে মানুষ ই কমার্স সাইট থেকে পন্য কিনছে ফলে ই কমার্স এর পরিচিতি ও পন্যগুলো সম্পর্কে ধারণা বৃদ্ধি পেয়েছে। মানুষ আস্তে আস্তে ইকমার্সকে জানতে শুরু করেছে।
মত: ২: মার্কেটপ্লেস বা ক্লাসিফাইড এড সাইটগুলো থেকে পন্য ক্রয় করে অনেকে ঠকছেন বা প্রতারিত হয়েছেন। ফলে সাধারণ কাস্টমার ঢালাওভাবে মনে করছে এটা ই কমার্স এর সমস্যা। এজন্য অনেকে ই কমার্স এর উপর অপবাদ দিচ্ছেন। এতে করে ই-কমার্স যতটা সমৃদ্ধি লাভ করার কথা ছিলো ততটা করেনি।

আপাতদৃষ্টিতে একটি বিষয় পরিষ্কার যে সাধারণ মার্কেটপ্লেসগুলো ইকমার্স সাইটের তুলনায় বেশী পরিচিত, বেশী পন্য বিক্রি করে এবং বেশী মানুষ ভিজিট করে। এতে করে একটা বিষয় বোঝা যায় যে, অনলাইনে কেনাকাটায় অভ্যস্ত করার ক্ষেত্রে মার্কেট প্লেসগুলোর ভূমিকা অনস্বীকার্য।

আরেকটা আমাদের রাখতে হবে যে, ইকমার্স দিন দিন প্রসারিত হবে এতে কোনো সন্দেহ নেই। কারণ ই ব্যাংকিং এবং ই কমিউনিকেশান বাংলাদেশে খুব দ্রুতই প্রসারিত হয়েছে। আরেকটা বিষয় আমার নিজের মত হলো। এটা হয়তো কখনো চীনের পর্যায়ে যাওয়ার অবস্থায় অন্তত এই মুহর্তে নেই। এর বহুবিধ কারণ রয়েছে, প্রথমত বাংলাদেশে বেশীরভাগ মানুষই পন্য ধরে ছুঁয়ে দরদাম করে কিনতে অভ্যস্ত। এবং দ্বিতীয়ত বিশ্বাসের সংকট এখানে সব সেক্টরে সব সময় বিদ্যমান। সবচেয়ে বড়ো কথা হলো যদি মোট ব্যবসায়িরক বেচাকেনার এক শতাংশও অনলাইনে হয় তাহলে এই সেক্টরে একটি ভরসার সুবাতাস বইবে। আর যদি তা ৫ কিংবা ১০ শতাংশে উন্নীত হয়। তাহলে দেশের কর্মসংস্থান খাত থেকে শুরু করে দেশের প্রতিটি খাতে এই উন্নয়নের একটি প্রভাব পড়বে। এতটুকু হওয়া মোটেই অস্বাভাবিক নয়। তবে সেটা কবে নাগাদ হতে পারে সেটা নির্ভর করবে আরো অন্যান্য নির্ভরশীল উপাদান, সুযোগ সুবিধা ও পদক্ষেপের উপর।

Comments

comments

About The Author



Freelance Consultant, Writer and speaker . Jahangir Alam Shovon has been in Bangladeshi Business sector as a consultant, He has written near about 500 articles on e-commerce, tourism, folklore, social and economical development. He has finished his journey on foot from tetulia to teknaf in 46 days. Mr Shovon is social activist and trainer.

1 Comment

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *