ই-কমার্সে মার্চেন্ট ও শিপার যখন প্রতারণার শিকার

1885

ই-কমার্সে মার্চেন্ট ও শিপাররা যখন প্রতারণার শিকার

জাহাঙ্গীর আলম শোভন

বাংলাদেশে ই-কমার্স এর উন্নয়নে যেসব বাঁধা রয়েছে তার মধ্যে একটা হলো প্রতারক মার্চেন্ট। মানে হলো বিভিন্ন প্রতারক ও ধান্ধাবাজেরা ফেসবুকে পেজ খুলে কম টাকার লোভ দেখিয়ে ভুল পন্য নষ্ট পন্য বা নকল পন্য বিক্রি করে কখনো কখনো বিকাশে টাকা গ্রহণ করে কোনো পন্যই দেয়া হয়না। ফলে ই-কমার্সে বিশ্বাসের ঘাটতি আছে। বেশীরভাগ মানুষের এটাই মত।  এই একই কারণে অনলাইন পেমেন্ট এর বদলে ক্যাশ অন ডেলিভারী বেশী জনপ্রিয়।

কিন্তু প্রতিদিন প্রতিমুহুর্ত ই-কমার্স ব্যবসায়ী এবং শিপার বিশেষ করে যারা পন্য ডেলিভারী দেয় তারা কি পরিমাণ প্রতারণার শিকার হয় সেকথা আমরা কয়জন খবর রাখি? এই সেক্টরে প্রতারণাগুলো কেমন হয় এর কিছু নমুনা তুলে ধরতে চাই। উদ্দেশ্য দু’টো প্রথমত, সবাইকে জানানো যে, একজন ই-কমার্স উদ্যোক্তা ও কুরিয়ার উদ্যোক্তা কি পরিমাণ যন্ত্রনার মধ্যে রয়েছেন, দ্বিতীয়ত যারা ই-কমার্স করবেন বা করছেন আর যারা পন্য ডেলিভারী কোম্পানী খুলবেন বা খুলেছেন তাদেরকে সতর্ক করা। বিশেষ করে যারা এখনো এসব ঘটনার শিকার হয়নি। আপনাদেরকে হতাশ করে দিয়ে এই ব্যবসায় আসতে নিরুৎসাহিত করার জন্য নয়। বরং আপনাদেরকে সচেতন করে দেয়া যাবে আপনারা এই ব্যবসায় আসার পর সমস্যাগুলো সমালে নিতে পারেন।

টেননিক্যাল সেক্টর থেকে

শতকরা ৬০ ভাগ ই-কমার্স উদ্যোক্তা ডোমেইন হোস্টিং থেকে শুরু করে ই-কমার্স ওয়েবসাইটের ব্যাপারে একবার হলেও প্রতারণার শিকার হয়েছেন। বেশী টাকা নিয়ে খারাপ সেবা দিয়েছে এমন নয়।  কোনো কোনো ক্ষেত্রে কোনো সেবাই পাননি। কোনো ক্ষেত্রে টাকা দিয়ে বছরের পর বছর ঘুরেছেন ডেভলপারের পেছনে। কোনো ক্ষেত্রে কাজ দিয়েছেন পরে আর সহযোগিতা করেননি। এমন ঘটনাও ঘটেছে যার কাছ থেকে ডোমেইন নিয়েছেন তিনি তার নিজের নামে ডোমেইন করে নিয়েছেন। আর অন্য লোকের সাইট করে সে সাইটকে নতুন বলে চালিয়ে দেয়া আর মার্চেন্ট এর তৈরী সাইট পরে অন্য লোকের কাছে হুবহু বিক্রি করে দেয়ার ঘটনা জরিপ করলে কয়েকশত বা হাজারও হতে পারে। যারা নতুন আসছেন তারা সাবধান থাকুন।

বিশেষ করে কম খরচের জন্য নন-প্রফেশনাল লোকদের কাছে গেলে এমনটা হয়ে থাকে। আর প্রথমে পূর্ণ পরিকল্পনা না করে বার বার পরিবর্তন করতে চাইলে ডেভলপাররা বিরক্ত হয়ে কিছু সমস্যা করে থাকেন। তাই সবাইকে সচেতন হতে হবে।

 

কাস্টমার সেক্টর থেকে

এই সেক্টরে ই-কমার্স উদ্যোক্তা ও শিপাররা সবচেয়ে বেশী প্রতারণার শিকার হয়ে থাকেন। কাষ্টমার অর্ডার দিয়ে পন্য গ্রহণ করেনা। বাসায় পন্য যাওয়ার পর দরদাম শুরু করেন নতুন করে। বাসায় থাকেন না, সকালে গেলে বিকেলে আসতে বলে। বার বার ঠিকানা ও তারিখ বদলায়। কখনো পন্য না রেখে বিনা কারণে ফেরত দেয়। পন্য বদলিয়ে রেখে দেয়। ১০ হাজার টাকা দামের শাড়ী প্যাকে খুলে রেখে দিয়ে ৭শ টাকা দামের জামা দিয়ে দেয় বলে আমিতো এটার অর্ডার করিনি। শুধু জোচ্চুরি বা চুরি ছিনতাই নয়, মিথ্যা কথাও বলে কাস্টমার। ঠিক কাস্টমার বললে ভুল হবে আসলে প্রতারক বা ছিনতাইকারী কাস্টমার সেজে এসব ঘটনা ঘটায়।

যেমন, বাসায় ডেলিভারী না নিয়ে পন্য রাস্তায় ডেলিভারী নেয় তারপর প্যাকেট হাতে নিয়ে মোটর সাইকেলে করে উধাও হয়ে যায়। টাকা আনতেছি বলে লাপাত্তা। বলে পন্যের দামতো ৯০০ টাকা আপনি আরো ১০০ টাকা দেন। আমার কাছে ১ হাজার টাকার নোট আমি আপনাকে বাসা থেকে টাকা এনে দিচ্ছি, বলে শুধু পন্য নয় আরো টাকা নিয়েও পালিয়ে যায়। অন্য লোকের অফিসে বিশেষ করে রিসিফশনে বসে পন্য দেখে, তারপর বলে বসকে দেখিয়ে আনি আপনি বসুন। তারপর পেছনের দরজা দিয়ে উধাও।

বিভিন্ন কথা বলে ডেলিভারী ম্যানকে আটকে রেখে এলাকার মাস্তানরা মুক্তিপন কিংবা ডেলিভারী কোম্পানীর পক্ষ থেকে চাঁদা নিয়ে থাকে। ঢাকা শহরের বেশীকিছু এলাকায় এমন হয়। কুরিয়ার কোম্পানীগুলো এসব এলাকাকে রেড জোন বলে থাকে। তারপর রয়েছে ডেলিভারীম্যানকে ফলো করে একা ফেলে ফাঁকা রাস্তায় ছিনতাই করা কিংবা বাসের মধ্যে তার পকেট কাটে, বাসের মধ্যেতো যে কারো পকেট কাটে কিন্ত অনেক সময় পকেটন কাটাররা ব্যাগ দেখে আন্দাজ করে তারকাছে টাকা আছে ধরে নিয়ে তার পকেট কাটে। এগুলো ২/৪ বার হয়নি এমন কোনো ডেলিভারী কোম্পানী নেই। এত ঝুঁকি নিয়ে তারা ব্যবসা করে অথচ অনেক মার্চেন্ট ৩০ টাকা করে পার্সেল দিতে চান, আর কোনো ক্ষতির অংশ নিতে চাননা। ভাবতে অবাক লাগে। এজন্য সবার দায়িত্ব রয়েছে এসব থেকে নিস্তার পাওয়ার জন্য।  মজার ব্যাপার হলো কাস্টমারদের এই প্রতারণা বেশীরভাগ ক্ষেত্রে এরা থাকে নারী ক্রেতা। ধারণা করা হয় সংঘবদ্ধ চক্রও থাকতে পারে নারীদেরকে ব্যবহার করে।

 

ডেলিভারী সেবা সেক্টর ও মার্চেন্ট সেক্টর

ডেলিভারী সেবা সেক্টর: এই সেক্টরে উদ্যোক্তারা কোনো সমস্যা সৃষ্টি করে না। কারণ এটা করার তার কোনো সুযোগ নেই। উদ্দেশ্য থাকারতো প্রশ্নই উঠেনা। এটা কাস্টমার আর কর্মীদের পক্ষ থেকে হয়ে থাকে। ডেলিভারী কোম্পানীর কর্মীরা যখন বিশ্বস্ত হয়না তখন তারা নানা সমস্যা তৈরী করে। কাস্টমারকে একবার ফোন দিয়ে বলে ৩ বার দিয়েছি। নিজে পন্য নিয়ে উধাও হয়ে যায়। কখনো টাকা নিয়ে কেটে পড়ে। কখনো অন্য লোকের কাছে তথ্য পাচার করে। আর সময়মত ডেলিভারী না দেয়া এবং পন্য হারিয়ে যাওয়া এগুলো বাংলাদেশে বড়ো বড়ো ডেলিভারী কোম্পানীগুলোতে ঘটে সবচেয়ে বেশী। কারো নাম প্রকাশ করার ইচ্ছে নেই। কিন্তু তাদের সাপ্লাই চেইন এত বড় হয়ে গেছে আমরা এখন তাদেরকে বাদ দিতে পারি না।

কখনো মাদকাসক্ত করমী এসে চাকরীতে যোগ দেয়। তারপর মাল অথবা টাকা নিয়ে সরে পড়ে। ফোণে পাল্টা হুমকি দেয়, যে আপনি কুরিয়ারে ইয়াবা ডেলিভারী দেন এটা বলে আপনি আপনাকে পুলিশের কাছে  ফাঁসিয়ে দেব।

কখনো কখনো মার্চেন্টরা সমস্যা তৈরী করেন, তারা প্রতারক কাস্টমারদের যথাযথ তথ্য যাচাই করেন না, আর এর মাশুল দিতে হয় ডেলিভারী কোম্পানীকে এটা একটা বাজে ব্যাপার। তবে ইদানিং একটা গুরুতর অভিযোগ শোনা গেছে কোনো ডেলিভারী কোম্পানী নাকি তাদের নিজের লোকদেরকে দিয়ে পন্য অর্ডার করায় এবং পরে তা রিসিভ হয়না মাঝখান দিয়ে তারা কিছু ডেলিভারী চার্জ পায়।  কিন্তু এর সত্যতা নিয়ে যথেষ্ঠ সংশয় আছে। কারণ একজন উদ্যোক্তার এ ধরনের মানসিকতা থাকার কথা নয়। আর প্রতারণার মতলব যারা আছে সে অন্য ব্যবসায় করবে অন্তত কুরিয়ার ব্যবসা নয়। কিছু ডেলিভারী কোম্পানীর বিরুদ্ধে সময়মত পেমেন্ট না দেয়ার অভিযোগতো আছেই। টাকা নিয়ে নিখোঁজ হওয়ার ঘটনাও ঘটেছে। কোন পরিস্থিতিতে তারা এমন করে এটা কেস স্টাডি বিশ্লেষণ না করলে কলা মুশকিল।

 

মার্চেন্ট সেক্টর:  ঠিক মার্চেন্টদের বিরুদ্ভেও শিপারদের অভিযোগ কম নয়। ভূল কিংভা অপূর্ণ ঠিকানা, দূর্বল প্যাক কিংবা ভুল পন্য এগুলোতে প্রায়ই হয়ে থাকে। প্রোডাক্ট কিপারকে বসিয়ে রাখাতো আছে। কাস্টমারের বার বার ঠিকানা ও টাইম বদলের অন্যায় আবদার গ্রহণ করে ডেলিভারীম্যানকে বিপদে ফেলাও সাধারণস ব্যাপার। সমস্যা হয় মার্চেন্ট যখন নিজেই পন্য দেরীতে দিয়ে ডেলিভারী কোম্পানীর উপর দোষারোপ করে। যখন ২৩০ টাকার জন্য ৭বার ফোন দেয়। যখন প্রোডাক্টস নিয়ে কাস্টমার কোনো সমস্যা করলে তখন ডেলিভারী কোম্পানীকে কোনো সহযোগিতা করে না। মার্চেন্টদের মধ্যেও আছে প্রতারক ও ধান্দাবাজ আর বেশীরভাগ ক্ষেত্রেই ডেলিভারী কোম্পানীর কোনো অপশন থাকেনা মার্চেন্ট বা পন্যকে অপশন নিয়ে চুজ করার। কিন্তু কাস্টমারের গালি, হুমকি আর সমস্যায় তাদেরকেই পড়তে হয়।

 

মানব সম্পদ সেক্টর

এ ব্যাপারে কারো সমস্যা কারো চেয়ে কম নয়। যারা মার্চেন্ট বা উদ্যোক্তা তারা শতকরা কতজন লেবার ল’ সম্পর্কে জেনে কোম্পানী খুলেছেন। আমার মনে হয়না শতকরা একজনও হবেন। এরকম অনেক কিছু সম্পর্কে না জেনেই অনেকে ব্যবসা শুরু করেন। আর কর্মীদের কথা কি বলব। বাংলাদেশের বর্তমান শিক্ষা ব্যবস্থায় এমনভাবে কর্মী তৈরী করা হচ্ছে যাদেরকে কোনো কাজের জন্য উপযুক্ত করে তৈরী করাও খুব কঠিন কারণ তাদের সে মানসিকতাও থাকেনা বেশীরভাগ ক্ষেত্রে। তাদের ধারণা শুধু অফিসে এসে হাজিরা দিলেই মাস শেষে বেতন। কোম্পানীর জন্য কোম্পানীর উন্নতির জন্য তাকে কাজ করতে হবে এবং এজন্য তাকে কিছু বিষয় জানতে হবে এবং দায়িত্ব নিয়ে সেটা সম্পাদন করতে হবে এই ধারণাই গড়ে উঠেনি।

ফলে তৈরী হয় নানা সমস্যা। সঠিকভাবে কাস্টমারের সাথে কথা বলেনা কর্মীরা। কথা বললে দায়সারা গোছের প্রশ্ন-উত্তর দিয়ে শেষ। কাস্টমারকে কনভিন্স করে পন্য সেল করতে হবে এটা তার দায় নয় কারণ মাসশেষে তিনিতো বেতন পাবেন। বিক্রি না হলে তার কি? তারপর হঠাৎ অন্য প্রতিষ্ঠানে চলে যাওয়া, কাস্টমার ডেটা চুরি করা, অন্য কর্মীদের বাগিয়ে নিয়ে যাওয়া, অফিসে বসে কাজের বদলে ফেসবুকে বসে থাকা, কোম্পানীতে সহকর্মীরা মিলে গ্রুপিং তৈরী করা, একজন আরেকজনের পেছনে লেগে থাকা, দেরী করে অফিসে আসা, কাজে ফাঁকি দেয়া এসবতো মামুলি ব্যাপার। তবে দায়িত্ববান কর্মীযে নেই তা নয়। তবে তাহারা বিরল প্রজাতি।

উদ্যোক্তারা যে ধোয়া তুলসি পাতা তা নয়। প্রথম সমস্যা হলো কোন কাজের জন্য কিভাবে সঠিক কর্মী বাছাই করবেন এটা বেশীর ভাগ উদ্যোক্তা জানেন না। আর ব্যবস্থাপনা, সম্পর্ক, নেতৃত্ব এসব জায়গায়তো আমাদের দেশে সমস্যা আছেই। ফলে উপোরক্ত সমস্যাগুলো সমাধান না হয়ে আারো বড়ো হতে থাকে। প্রিয় উদ্যোক্তা আপনি অবশ্যই এসবের সমাধান নিয়ে ভাবুন এবং সতর্ক থাকুন।

নিজের কর্মীদের দ্বারা সাইট কিংবা এফবি পেইজ হ্যাক হওয়ার মতো ঘটনাও এদেশে কম ঘটেনি। তবে একজন ভালো মানুষ, ভালো উদ্যোক্তা এবং ভালো লিডার এই সমস্যাগুলো কাটিয়ে উঠতে পারে এবং নিজের জন্য একটা টিম শেষ পর্যন্ত তৈরী করে ফেলেন এবং এসব উদ্যোক্তারা সফলতার শিখরে পৌছে যান।

উদ্যোক্তা ও শিপাররা প্রতারণা শিকার প্রতি পদে পদে। একটা ফোন আসলে একজন ই-কমার্স ও ডেলিভারী কোম্পানীর মালিকের বুক কাঁপতে থাকে আবার কি সমস্যা হলো? কোথায় মাল হাইজ্যাক হলো, কোন কাস্টমার আবার কমপ্লেইন করলো। রাস্তায় পুলিশের ঝামেলার ভয় থাকে। বিদেশ থেকে মাল আনতে গেলে কাস্টমস ঘুষের আতংক। আর পার্টনারের কাছ থেকে আঘাত পাওয়ার ঘটনারতো কোনো শেষ নেই। এটাই বাংলাদেশের চিত্র। একজন উদ্যোক্তার জীবন যৌবন ক্ষয় হয়ে যায় একটা ব্যবসা দাড় করাতে। আর এক শ্রেণীর কাস্টমার সবাইকে এক পাল্লায় মাপেন আর ৩০০ টাকার পন্যের জন্য ফেসবুকে চোর বাটপার বলে পোস্ট দিয়ে বসে থাকেন।

হায়রে উদ্যোক্তা! এখন রাতের তিনটা বাজেও যদি ফেসবুকে টুং করে কোনো নোটিফিকেশন আসেন এই কঠিন শীতের মধ্যে কম্বল থেকে হাত বের করে আগে দেখেন কেউ কোনো আবোল তাবোল পোস্ট দিলো কিনা? বা কেউ কোনো বাজে কেমন্ট করল কিনা?

এইযে প্রতারণা, এইযে অপেশাদারিত্ব এটা কোনো নিদিষ্ট দল, পেশা কিংবা এলাকার সমস্যা নয়। এটা আমাদের সামাজিক সমস্যা। সমাজের সব স্তরে এটা বিদ্যমান শুধু কৌশলটা আলাদা। যতদিন মানুষের শিক্ষা, মূল্যবোধ, মানবিকতা, ধরমীয় চেতনা ও দেশপ্রেম উন্নত না হবে ততদিন এসব সমস্যা থেকে মুক্তি নেই। ততদিন সতরক থাকুন, নিজের দোষত্রুটি থাকলে সেগুলো শোধরানোর চেষ্টা করুন আর নিজের টিমকে শিক্ষা, প্রশিক্ষণ ও অনুপ্রেরণার মাধ্যমে ব্যাড প্রাকটিসগুলো থেকে বের করে আনার জন্য কাজ করুন।

Comments

comments

About The Author



Freelance Consultant, Writer and speaker . Jahangir Alam Shovon has been in Bangladeshi Business sector as a consultant, He has written near about 500 articles on e-commerce, tourism, folklore, social and economical development. He has finished his journey on foot from tetulia to teknaf in 46 days. Mr Shovon is social activist and trainer.