ই-কমার্সের নামে এমএলএম: সতর্ক থাকা উচিত সবার

1157

ই-কমার্সের নামে এমএলএম: সতর্ক থাকা উচিত সবার

জাহাঙ্গীর আলম শোভন

খুব কষ্ট নিয়ে লেখাটা লিখতে হচ্ছে। ই কমার্স এসোসিয়েশান হওয়ার পর বিভিন্ন বাঁধা অপপ্রচার এসেছে। সবাই সেটাকে ঐক্যবদ্ধভাবে মোকাবিলাও করেছে। কিন্তু হঠাৎ করে যখন দেখলাম। ই- কমার্সের নামে এমএলএম চালু করা হয়েছে। তখন মনটা ব্যাথায় ভারাক্রান্ত হয়ে গেছে।

আমাদের দেশে নতুন কোনো সম্ভাবনাময় ব্যবসায় বা পেশা শুরু হলে যে সমস্যাগুলো হয়। আমরা চাইনা সে একই সমস্যাগুলো ই কমার্সের ক্ষেত্রে হোক। যেমন:

১. হুযুগ সৃষ্টি হওয়া, বুঝে না বুঝে বিশাল একটা অংশের এ ব্যাপারে ঝুঁকে পড়া।

২. ধান্ধাবাজ এবং অসৎ উদ্দ্যেশ্যধারী লোকেরা যেন এখানে আসতে না পারে। আর আসলেও তাদেরকে যেন চিহ্নিত করে রাখা যায়। যাতে মানুষ তাদের কাছ থেকে দূরে থাকতে পারে।

৩. যা তা কোয়ালিটি, যেভাবে সেভাবে ই কমার্স খুলে যেন কেউ এর মান নষ্ট করতে না পারে।

এসবের মধ্যে এই বাড়তি সমস্যা হিসেবে দেখা দিয়েছে এই ইকমার্সের নামে্‌ যারা এমএলএম ব্যবসায়ের সাথে জড়িত তারা লেখাটা পুরো না পড়ে কোনো মন্তব্য করবেন না আশা করি।

একটা কথা অস্বীকার করতে পারি না যে, সরকারী বিধিমালা মেনে যে কেউ দেশে যেকোনো ব্যবসায় করতে পারে। সেখানে আমাদের বিপত্তির কোনো সুযোগ নেই। এমএলএম এর ক্ষেত্রে তাই। কেউ যদি বৈধভাবে কোনো নতুন ফর্মূলা নিয়ে কাজ করে তাহলে বাঁধা দেয়ার কোনো কারণ নেই। আর সেই এমএলএম ব্যবসায়টা যখন কেউ অনলাইনে বা ইন্টারনেটে করবে তখন তারা সেটাকে ই কমার্স বলতেই পারে।

উপরের কথাটা মাথায় রেখে বলছি। প্রথমত: যাদের ব্যবসায় যদি ই কমার্সের সংজ্ঞার মধ্যে পড়ে না। দেশের আইন অনুসারে তারা সেটাকে ই-কমার্স বলতে পারেন না। যদিও ই কমার্সের আইনসঙ্গত সংজ্ঞা ই-কমার্স নীতিমালার সাথে প্রণয়নের কাজ চলছে।

দ্বিতীয়: কোনো একটা ব্যবসায় অনলাইনে নিয়ে আসলেই আইনসঙ্গতভাবে সেটাকে ইকমার্স বলা যায়না। যেমন দেশের প্রায় সব প্রচলিত ব্যাংক অনলাইন হয়ে গেছে ইন্টারনেটে লেনদেন করছে। তাই বলে আমরা কি ব্যাংকগুলোকে ই কমার্স বলবো। ব্যাংকের অনলাইন লেনদেনগুলো কি ই কমার্স এর লেনদেন হিসেবে বিবেচিত হবে? না হবেনা?

তৃতীয়ত: অন্তত আমাদের দেশে এমএলএম এর অভিজ্ঞতা খুব খারাপ। অসংখ্য এমএলএম কোম্পানী বন্ধ হয়ে গেছে। এমএলএম করে যে হাতিঘোড়া লুট করা যায় এমন অনেক কথা বলা হলেও বাস্তবতা ভিন্ন।

চতুর্থত: সরকারী নীতিমালায় প্রথম থেকে এমএলএম ব্যাপারে একটা কথা বলা ছিলো যে, এটা হতে হবে পন্যভিত্তিক । দেখা গেছে  এমএলএম কোম্পানীগুলো পন্যভিত্তিক করার পরও বিভিন্ন ধরনের ফাঁকিঝুঁকি অপশন চালু করে এটাকে একটা সার্ভিস চার্জ বিনিময়ের মতো করে ফেলেছিলো।

পঞ্চমত: যেসব বুলি আওড়ানো হয়। এমএলএম করে মালয়েশিয়া উন্নতি করেছে। বা আরো অনেক তথ্য দেয়া হয়। এসব তথ্য আপনারা বিশ্বের কোনো মেইনস্ট্রিম বিজনেস বা ইকোনমিক ম্যাগাজিন পত্রিকায় বা বিশ্ববিদ্যালয় গবেষণায় প্রকাশ হয়নি। সূতরায় এসব তথ্যের দ্বারা কেউ বিভ্রান্ত হবেন না।

আর সাধারণ মানুষ এর দ্বারা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার কারণে এর নেতিবাচক প্রভাব যেন ই কমার্সে না পড়ে। সেজন্য এদের কাছ থেকে দূরে থাকতে হবে। এবং সাধারণ মানুষকেও সচেতন করতে হবে।

এমনিতে আমরা একটা যুদ্ধের মধ্য দিয়ে যাচ্ছি। শতশত নতুন উদ্যোক্তা  ই কমার্সে এসেছে তাদের সেই কাংখিত সাফল্য হয়তো সামনে রয়েছে। এই মুহুর্তে কেউ এই খাতকে আরো চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলে দিক আমরা অন্তত চাইনা।

এমএলএম ভালো কি মন্দ। এই তর্কে আমি যেতে চাইনি। তবুও কেউ যদি আর বেশী জানতে চান তার জন্য আমি কেন ইকমার্স সমর্থন করিনা এই মর্মে আমার আলাদা লেখা রয়েছে। সে সিরিজ লেখাটি শুধুমাত্র আমার মতামত। সেটা হলো আমি কেন এমএলএম সমর্থন করিনা। আশা করি যারা আমার যুক্তির সাথে একমত হবেন। তারাও এটাও একমত হবেন যে, এমএলএম নামক বাংলাদেশী ভাওতাবাজি থেকে শুধু ই কমার্স নয় সবারই নিরাপদ থাকা উচিত।

এই লিংকে ধারাবাহিক লিখনী থেকে আরো কিছু জানা যাবে। বাংলাদেশের পেক্ষাপটে এমএলএম এর সমস্যাগুলো নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে। প্রচলিত এমএলএম এর এই সমস্যাগুলো যদি তথাকথিত ই-কমার্স নামের এমএলএম থাকে। তাহলে সেটাকে আমরা কিভাবে দেখবো এই সিরিজ লেখাতে একটা ধারণা দেয়ার চেষ্টা করবো

কেন এমএলএম সমর্থন করি না।

Comments

comments

About The Author



Freelance Consultant, Writer and speaker . Jahangir Alam Shovon has been in Bangladeshi Business sector as a consultant, He has written near about 500 articles on e-commerce, tourism, folklore, social and economical development. He has finished his journey on foot from tetulia to teknaf in 46 days. Mr Shovon is social activist and trainer.

No Comments

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *