branding_design

প্রসঙ্গ: ইফেকটিভ কনটেন্ট

জাহাঙ্গীর আলম শোভন

আমরা এখন নিশ্চই বুঝতে পারছি যে আমাদের সাইটের ভিজিটের, রিচ, লাইকার, কমেন্টর এমনকি সর্বোপরী ক্রেতা বাড়াতে আমরা ইফেকটিভ কনটেন্ট খুজি। ইফেকটিভ কনটেন্ট কি তা কিভাবে কাজ করে তার আগে জেনে নিই। কনটেন্ট সম্পর্কে। কনটেন্ট এর বাংলা প্রতিশব্দ বিষয়বস্তু হলেও মুলত কনটেন্ট এর বিস্তৃতি ব্যাপক। ই কমার্সের আলোকে আমরা জেনে নিই যে কোন কোন বিষয়বস্তুকে আমরা কনটেন্ট বলবো এবং সেটা কি ধরনের কনটেন্ট হবে।

কনটেন্ট কি কি?

টেক্স কনটেন্ট: ব্লগ, প্রেস রিলিজ, পন্য বিবরণী, প্রোডাক্ট রিভিও, কোম্পানী রিভিউ, কাস্টমার রিভিও, ডায়াগ্রাম।

ভিডিও: টিভিসি, টিভি এড, সোস্যাল ভিডিও, প্রমোশনাল ভিডিও, গান, নাচ, শর্টফিলম, ডকু, এনিমেশন, কার্টুন ইত্যাতি।

অডিও: অডিও ট্রেলার, গান ট্রাক, কাস্টমার অডিও রিভিও, সংলাপ, মিউজিক, কোনো ভাইরাল অডিও।

ইমেজ: ডিজাইন, ফটোগ্রাফী, এনিমেশন, আঁকা ছবি, কার্টুন, ইমেজ, কম্পিউটার ডিজাইন ইত্যাদি

অন্যান্য: প্যাকের গায়ে এড, প্যাড, খাম, ভিজিটিং কার্ড, বিলবোর্ড, স্ক্রীণ সেভার, ব্যানার, সাইনবোর্ড ইত্যাদি।

 ইফেকটিভ কনটেন্ট কি কি কাজে লাগে

১. কনটেন্ট এর মাধ্যমে ভোক্তা সাধারণকে কিছু তথ্য ও বার্তা দেয়া যায়।

২. কনটেন্ট ডাইভার্স করার মাধ্যমে কাস্টমারের কাছে প্রতিষ্ঠানসম্পর্কে একটা ইতিবাচক ভাবমূর্তি তৈরী করে।

৩. কনটেন্ট ভালো হলে তা গুগলে রিচ পেতে ও এইসইও করতে সহজ হয়, এতে করে অল্প সময়ের মধ্যে কনটেন্ট এ রিচ বেড়ে যায়।

৪. বিশেষকরে ফেসবুকে বা অন্যান্য সামাজিকে মাধ্যমে খুব আবেদনধর্মী বা আবেগ জাগানিয়া কনটেন্ট দিলে তা প্রচুর শেয়ার ও প্রচর রিচ করে , এতে একধরনের মার্কেটিং হয়ে যায়।

৫. সঠিকভাবে সঠিক তথ্যসহ কনটেননট প্রোভাইড করতে পারলে কনটেন্ট এর মাধ্যমে এসইও, পেজ ভিজিটর এবং বেশী মানুষের কাছে মেসেজ দেয়া যায়।

৬. ঠিক একইভাবে আকর্ষনীয় কনটেন্ট দিয়ে পন্য বা সেবার বেশী প্রচার করা যায় ফলে বিক্রির সম্ভাবনাও বেশী থাকে।

৭. আপনি যে বিষয় বা পন্য নিয়ে ব্যবসায়করছেন সে বিষয়ে বেশী বেশী তথ্য শেয়ার করলে ব্যবসায় সম্পর্কে এবং পন্যটি সম্পর্কে ক্রেতা সাধারনের সচেতনতার পাশাপাশি অন্যরা যেমন সরকার, সংবাদ মাধ্যম লেখক ও গবেষকরা প্রয়োজনীয় তথ্য উপাত্ত পেতে পারে কনটেন্ট এর মাধ্যমে।

 

কি কি থাকে ইফেকটিভ কনটেন্ট এ

১. আপনার কনটেন্ট থাকতে পারে একটি ইউনিক আইডিয়া বা নতুন কোনো মেসেজ।

২. থাকতে পারে কাস্টমার বা সাধারণ মানুষের জন্য উপকারী কোনো বিষয়।

৩. থাকতে পারে প্রতিযোগিতামূলক কোনো পন্য বা সেবার আকর্ষনীয় বিবরনী থাকতে পারে নিজস্বকোনা আইডিয়া বা থিমের কথা।

৪. অবশ্যই আপনার কনটেন্ট হতে হবে অন্যদের চেয়ে আলাদা, এবং মানসম্পন্ন ক্ষেত্রে বিশেষে এটা কালারফুলও হতে পারে।

৫. যদি এটা কোনো নির্দিষ্ট কাস্টমারগ্রুপের জন্য হয়, তাহলে আরো ভালো, সেক্ষেত্রে কোনে কাস্টমার গ্রুপ সেটা প্রথমেইে উল্লেখ থাকবে নয়তো ইঙ্গিত থাকতে হবে।

৬. এটা হতে পারে মানুষের আগ্রহ আছে এমন কোনো বিষয়ের উপর, অথবা মানুষের আগ্রহ সৃষ্টি হবে এই উদ্দেশ্যেও কনটেন্ট প্রোভাইড করা যায়।

৭. একটা কনটেন্ট এ বর্ণিত বিষয়টি পরিষ্কার এবং যথাযথভাবে উপস্থাপিত হবে।

 

ইফেকটিভ কনটেন্ট এর বৈশিষ্ট্য কি কি?

১. এটা খুব উন্নত শিল্পকর্ম হওয়া জরুরী নয়, একটা মিনিমাম স্টান্ডার্ড মেনটেন করতে পারলে ভালো।

২. এটা খুব বড় বা খুব ছোট হবে না। কিন্তু এটা হবে অল্প কথায় বিস্তারিত।

৩. প্রথমবার বা প্রথম অংশ দেখেই যেন মানুষ আকৃষ্ট হয়, সেটা মাথায় রাখতে হবে।

৪. এতে ইতিবাচক চিন্তাভাবনার বহিপ্রকাশ থাকবে, নেতিবাচক বিষয়গুলো যতোটা সম্ভব এড়িয়ে যেতে হবে নয়তো কৌশলে প্রকাশ করতে হবে।

৫. এটা পাঠকরে বিশ্বাসযোগ্যতা তৈরী করার জন্য যথেষ্ঠ মার্জিত মানসম্পন্ন ও বিশ্বাসযোগ্য হবে।

৬. এর মধ্যে প্রযুক্তিগত কোনো জটিলতা থাকা চলবেনা যাতে এটা আপলোড বা ভিজিট করতে কোনো সমস্যা তৈরী হয়।

৭. এটার একটা লক্ষ্য থাকতে হবে, সেটা সরাসরি না হোক কিন্তু একটা লক্ষ্য সেট করেই কনটেন্ট তৈরী করতে হবে।

কনটেন্ট তৈরীর ক্ষেত্রে সর্তকতা

১. এটা অবশ্যই কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠিকে আঘাত করবে এমন হতে পারবে না।

২. এটা কোনোভাবেই অন্য কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের কনটেন্ট এর কপি হবে না।

৩. দেশের প্রচলিত শিক্ষা, সংস্কৃতি ও ধর্মকে আঘাত করে এমন কনটেন্ট রাজনীতির মাঠ গরম করতে পারে কিন্তু কমার্শিয়াল কনটেন্ট এর ক্ষেত্রে মোটেই কাম্য নয়।

৪. তথ্য, উপাত্ত, বক্তব্য এসবের মধ্যে কোনো ভুলত্রুটি থাকতে পারবে না।

৫. কনটেন্ট এর সাথে অন্যান্য উপাদান কতটা প্রাসঙ্গিক তা খেয়াল রাখতে হবে।

 

এই লেখাটি সব কনটেন্ট এর জন্য প্রযোজ্য আমরা অবশ্যই কনটেন্ট তৈরীর ক্ষেত্রে এই বিষয়গুলো লক্ষ্য করবো যাতে কনটেন্ট ইফেকটিভ হয়। রিচ কনটেন্ট ভিজিটর আনতে কখনো ভুল করে না।

 

 

 

 

 

763 total views, 4 views today

Comments

comments