ইকমার্স: ই ক্যাব পেইজ থেকে কয়েকটি প্রশ্নোত্তর

441

ইকমার্স: ই ক্যাব পেইজ থেকে কয়েকটি প্রশ্নোত্তর
জাহাঙ্গীর আলম শোভন
এবারো ইক্যাব এর ফেইজবুক পেইজে দেয়া পরনো কিছু প্রশ্নোত্তর তুলে দিলাম। একই সাথে আর্টিকেল আকারে তাকলে অনেকের জন্য যেমন সুবিধা হবে। তেমনি কনটেন্ট হিসেবে সংরক্ষনে সহজ হবে। আবার অনেকগুলো ইনফরমেশন একজায়গায় একসাথে থাকলো। ধন্যবাদ যনি প্রশ্নেগুলো করেছেন।

farm

(১) কোন Order আসার পরে Product Delivery এর ক্ষেত্রে যদি Product টি Dhaka তে Delivery দিতে হয়, তবে কি সরাসরি নিজেদের লোক দিয়ে Delivery দেওয়া ভালো? নাকি এক্ষত্রে কোরিয়ার সার্ভিস এর মতো কোন মাধ্যমকে ব্যাবহার করা ভালো?
(2) বাংলাদেশের বর্তমান প্রেক্ষাপটে এবং Coustomer দের চাহিদা অনুযায়ী Dhaka’র বাইরে কোন কোন মাধ্যমে Product Delivery দেওয়াটা এখনো অনেক নিরাপদ এবং দ্রুত সময়ে পৌছে দেওয়া যায়? তাদের Shipping Charge কেমন?
Ans ১, ২:
শিপিং চার্জ নির্ভর করছে আপনি কোন মাধ্যম ব্যবহার করছেন। সেটার উপর
কুরিয়ার: ৫শ গ্রাম ওজনের একটা পন্যেও জন্য কমপক্ষে ৫০ টাকা নেবে। প্রতি কেজি কোম্পানী ভেদে ২০ টাকা থেকে ৩০ টাকা পর্যন্ত দাম হয়। তবে এই রেট ঢাকা শহরের মধ্যে হলে তারা অনেক সময় কনসিডার করে। আবার কোনো কোনো এরিয়ার জন্য এই খরচ ৩ থেকে ৫ গুণ বাড়িয়ে দেয়। যেমন পার্বত্য চট্টগ্রাম, উত্তরাঞ্চলের রিমোট এরিয়া, কোনো দ্বীপ ইত্যাদিও ক্ষেত্রে নরমালে ১০০ টাকা হলে তখন এসব এলাকার জন্য ৩০০ টাকা হয়ে যায়।
পার্সেল: পার্সেলে সুবিধা হলো এতে খরচ কম আর কন্ডিশন ডেলিভারি দেয়া যায়। আর অসুবিধা হলো এতে হোম ডেলিভারি হয়না। পার্সেল কোম্পানীর অফিস থেকে ডেলিভারী নিতে হয়। এক্ষেত্রে প্রোডাক্টস তাদের স্থানীয় সেন্টারে গিয়ে পৌছলে তারা গ্রাহককে ফোন দিয়ে বলে যে আপনার নামে আমাদের কাছে একটি প্যাকেট এসেছে। আপনি এসে নিয়ে যান। এক্ষেত্রে যে ফোন নাম্বার লেখা থোকে সেটা দিয়ে পার্সেল অফিস যাচাই করে দেখে যে সঠিক গ্রাহক পন্যটা নিতে আসলো কিনা।
কন্ডিশন ডেলিভারি: কন্ডিশন ডেলিভারি হচ্ছে গ্রাহক মাল ডেলিভারি নেয়ার সময় দাম দিয়ে ডেলিভারি নেবে। সহজ কথায় বলে বাকিতে বিক্রি। গ্রাহক যখন সেটা গ্রহণ করবে তখন দাম দিয়ে গ্রহণ করবে। যেমন ধরুন আপনি একটি টিশার্ট বিক্রি করলেন তার দাম ৭০০ টাকা আর পার্সেল চার্জ ৫০ টাকা পার্সেল কোম্পানী ৭৫০ টাকা গ্রাহকের কাছ থেকে নিয়ে ডেলিভারি দেবে। এবং ৩/৪ দিন পর আপনি একটা মেসেজ পাবেন পার্সেল অফিস থেকে তারা বলবে আপনার ৭০০ টাকার একটা কন্ডিশন ডেলিভারির দাম এসেছে। উল্লেখিত মোবাইল নং সহ একজন ব্যক্তি আপনার অফিসের কাগজ বা মানি রিসিপ্ট নিয়ে এটা গ্রহণ করুণ । যারা ই কমার্স করবেন তাদের জন্য এটা নিরাপদ ও বিশ্বাস যোগ্য। সমস্যা হলে ১. এতে হোম ডেলিভারি হয়না ২. গ্রহাককে পার্সেল অফিসে এসে ফোন নং এর মাধ্যমে পরিচয় নিশ্চিত করে টাকা দিয়ে ডেলিভারি গ্রহণ করতে হয়। এতে প্যাকেট এর সাইজ অনুসারে ও ওজন হিসেবে রেট ঠিক হয়ে থাকে। ডকুমেন্ট এর রেট একটু কম হয় আর ভোগ্যপনের রেট একটু বেশী হয়। আমি আপনাদের ধারণার জন্য আমার অভিজ্ঞতার আলোকে বলছি- দুইফুট বাই দেড়ফুট সাইজের ৪০ কেজী ওজনের একটি বইএর প্যাকেট ২০০ টাকা-৩০০ টাকা এ সার্ভিস জেলা শহর পর্যন্ত । বাংলাদেশের কম উপজেলায় এ সার্ভিস রয়েছে।
ট্রান্সপোর্ট সার্ভিস: এটা পার্সেল সার্ভিস এর মতো। তবে সব কোম্পানীতে কন্ডিশন ডেলিভারি হয়না। এই সার্ভিসটা বাংলাবাজার, পুরনো ঢাকা, পল্টন এসব এলাকায় পর্যাপ্তভাবে রয়েছে। বিভিন্ন ট্রান্সপোর্ট কোম্পানী রয়েছে। চকবাজার বেসড কোম্পানীগুলোর রেট সস্তা। এক মণ ওজনের একটি প্যাকেট একশ টাকা দিয়েও বুকিং দেয়া যায়। পার্সেল সার্ভিস এর মতো এখানেও হোম ডেলিভারী হয়না। গ্রাহক তাদের সার্ভিস সেন্টার থেকে ডেলিভারী নিতে হয়।
এক্ষেত্রে বিভিন্ন যাত্রীবাহী বাস কখনো কখনো পন্য নেয়। তবে কোন লোক ছাড়া এভাবে পন্য পাঠানো ঠিক নয়। কারণ তারা এটার জন্য পারমিটেড নয়। তাছাড়া তারা কোন রশিদ দেবেনা। লঞ্চ গুলোও কম দামে পন্য বহন করে। সেক্ষেত্রেও হোম ডেলিভারী হয়না এবং ওরা রশিদ দেয়না।
ডাক বিভাগ: বাংলাদেশ ডাক বিভাগে অনেক অপশন আছে। ডাক বিভাগের সার্ভিসও সমগ্র দেশব্যাপী। এর মধ্যে একটা হলো ভিপি। এটা কন্ডিশন ডেলিভারির মতো। তবে ডাক বিভাগের উপর আজকাল কারো আস্থা নেই। তবে রেজিস্ট্রি ডাক, মেইল এক্সপ্রেস, ই পার্সেল ইত্যাদি নানা সার্ভিস ঢাক বিভাগে চালু হয়েছে। প্রথমত এগুলো জিপিও ছাড়া কোথাও পাওয়া যায়না। দ্বিতীয়ত নির্দিস্ট সসময়ে ডেলিভারী হয়না।
(3) যদি আমরা কুরিয়ার সার্ভিস ব্যাবহার করি, তবে কোন কোন কুরিয়ার সার্ভিসটি সবচেয়ে উপযুক্ত? কুরিয়ার সার্ভিসগুলোরে মাধ্যমে কি আমরা অন্য সব সাধারণ লোকদের মতো করেই ঠিকানা উল্লেখপূর্বক Product পাঠিয়ে দিব, নাকি কুরিয়ার সার্ভিসগুলোর সাথে আমরা কোন চুক্তিতে যাব? যদি চুক্তিতে যাই তবে চুক্তিটা কেমন হবে এবং কিভাবে করবো?
উত্তর: কুরিয়ার সার্ভিস গুলো কর্পোরেট চুক্তির আওতায় ডেলিভারী ব্যবসা করে থাকে। সব কুরিয়ার কোম্পানীর সাথে আলাপ করে দেখেছি। মাসে ১০০ প্যাক ১০০ মণ ডেলিভারি হবে শুনে তারা আগ্রহ প্রকাশ করেনি। তারা জানতে চেয়েছে প্রতিদিন ১০০ প্যাকেট বা একইসাথে ১০০ প্যাকেট অথবা প্রতিদিন একটি গাড়ি ভর্তি মাল দিতে পারবো কিনা? তাহলে তারা সেটা করবে। এবার পরিিিস্থতি বুঝুন।
তবে আপনি নিজেই কুরয়ার সার্ভিসের এজন্ট নিতে পারেন।
(4) আমরা কি আমাদের Product Delivery দেওয়ার ক্ষেত্রে Coustomer দের নিকট থেতে প্রত্যক্ষভাবে কোন Shipping Charge নিবো? নাকি এর পুরো ব্যাপারটাই পরোক্ষভাবে হবে অর্থাৎ, Hide থাকবে এবং কোন Shipping Charge নেই এই ধরেনের কথা উল্লেখ করা হবে?
উত্তর: এটা আপনার পলিসি আপনিই ঠিক করুন।
যদি মনে করেন আপনার পন্যেও দামটি এমন স্কেলে আছে যে এটি পাঠাতে কখনো ৫০ টাকা আবার কখনো ১৫০ টাকা খরচ হলেও আপনার লাভ থাকবে বা খুব বেশী ব্যবসায়িক ক্ষতি হবেনা। তাহলে আপনি শিপিং রেটসহ পন্যেও দাম নির্ধারণ করতে পারেন।
আর যদি আপনি মনে করেন। না আপনি পন্যটি ঢাকায় ২০ টাকায় আর সেন্টমার্টিনে ২০০ টাকায় শিপিং করতে গিয়ে ব্যালেন্স রাখতে পারবেননা সেক্ষেত্রে অবশ্যই রেট আলাদা এনাউন্স করুন।
আর একটা বিষয় সেটা হলো ভ্যাট। আপনি যদি রেটের সাথে ক্যারিং যুক্ত করেন। তাহলে ভ্যাটটাও বেড়ে যাচ্ছে কিন্তু।

(5) বাংলাদেশের বর্তমান প্রেক্ষাপটে কোন ধরনের Payment System বেশি কার্যকরী? Order করার সময়ই Payment করতে হবে এই System নাকি হাতে পেয়ে সরবরাহকারীর হাতে Payment করার System? কিংবা একই সাথে কি দুটো Payment System চালু রাখলে ভালো হবে কি?
উত্তর: দুটি নয় আপনাকে একই সাথে ৫টি পেমেন্ট সিস্টেম চালু রাখতে হবে। বিভিন্ন অপশন থাকলে গ্রাহকের জন্য সুবিধা হবে।
১. অগ্রিম নগদ ও অগ্রিমচেক
২. ব্যাংক একাউন্টের মাধ্যমে- অনলাইন ব্যাংকিং
২. কার্ডের মাধ্যমে ও অনলাইন পেমেন্ট
৩. বিকাশ বা মোবাইল ব্যাংকিং
৪. কন্ডিশন ডেলিভারী ও ভিপি
৫. হাতে হাতে- পন্য বুঝিয়ে দিয়ে টাকা বুঝে নেয়া
এরমধ্যে প্রতিটাতেই কিছু সুবিধা এবং অসবিধা আছে। যেটা যেটা আপনার এবং কাস্টমার উভয়ের জন্য সহজ হয়।
(6) হাতে পেয়ে সরবরাহকারীর হাতে Payment System এর ক্ষেত্রে কুরিয়ার সার্ভিসের মাধ্যমে পাঠানো Product এর Payment কিভাবে পাওয়া যাবে?
উত্তর: অগ্রিম নিতে হবে। নয়তো কন্ডিশন ডেলিভারী। তবে সেটা কুরিয়ারে নয় পার্সেল সার্ভিসে।আপনাকে কুরিয়ার সার্ভিসগুলোর সাথে যোগাযোগ করতে হবে। তার কন্ডিশন ডেলিভারি বা ক্যাশ ডেলিভারী দেয় কিনা? এবং কোন কোন এলাকায় দেয় কেমন চার্জ নেয়। পন্য হারিয়ে গেলে কি হবে? আর ফেরত আসলে কত চার্জ নেবে। এসব সরাসরি জেনে নিন।
(7) Order করার সময় Payment System এর ক্ষেত্রে কোন কোন System রাখতে হবে? এই Payment System গুলোকে সংযুক্ত করতে কোন কোন মাধ্যম গুলোর সাথে যোগাযোগ কিংবা চুক্তিতে যেতে হবে এবং কিভাবে? যেমন: Payment System মাধ্যম যদি হয় bkash, DBBL Mobile Banking তাহলে তাদের সার্ভিসটা আমি কিভাবে ব্যাবহার করতে পারি। এই Payment System গুলোকে সংযুক্ত করতে মাধ্যম গুলোর সাথে যোগাযোগ কিংবা চুক্তিতে যেতে হবে কি এবং যদি চুক্তিতে যেতে হয় তাহলে সেটা কিভাবে?
উত্তর: ব্যাংকগুলো সার্ভিস এর সীমাবদ্ধতা আছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের নীতিমালার ব্যাপার আছে। তারা টাকা লেনদেন ছাড়া আর কোন কিছুই পারবেনা। আর মোবাইল ব্যাংকিং এর নিয়মতো জানেন, সেজন্য চুক্তির দরকার নেই।
তবে আপনি যদি কুরিয়ার কোম্পানীর সাথে চুক্তি করেন। তাহলে সেটাই ভালো হবে। চুক্তিটা হবে কন্ডিশন ডেলিভারী। যেমন ধরুন আপনি একটি বিদেশী ক্রিম বিক্রি করলেন তার দাম ৫০০ টাকা আর কুরিয়ার চার্জ ৫০ টাকা কুরিয়ার কোম্পানী ৫৫০ টাকা গ্রাহকের কাছ থেকে নিয়ে ডেলিভারি দেবে। তারপর তাদেও ৫০ টাকা রেখে আপনার ৫০০ টাকা আপনাকে বুঝিয়ে দেবে। যারা ই কমার্স করবেন তাদের জন্য এটাই উত্তম।

তাছাড়া বর্তমানে বেশ কয়েকটি  পেমেন্ট গেটওয়ে চালু হয়েছে। অগ্রিম বা ডেলিভারীর পরে টাকা রিসিভ করার জন্য িএগুলো খুব ভালো। আপনার যদি ট্রেড লাইসেন্স ও বিজনেস একাউন্ট থাকে সহজেই এই সেবা পেতে পারেন।

What-is-a-Business-Plan-aএসব প্রশ্নের উত্তরে হয়তো পূর্ণাঙ্গ সমাধান অনেক ক্ষেত্রে দেয়া যায়না বা দেয়া হয়না। তবে একটা পরামর্শ আকারে তো দেয়া যায়।

Comments

comments

About The Author



Freelance Consultant, Writer and speaker . Jahangir Alam Shovon has been in Bangladeshi Business sector as a consultant, He has written near about 500 articles on e-commerce, tourism, folklore, social and economical development. He has finished his journey on foot from tetulia to teknaf in 46 days. Mr Shovon is social activist and trainer.

No Comments

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *