ইকমার্সের প্রভাব -আশীর্বাদ নাকি অভিশাপ ?

516
এক বছর আগের কথা । একটি বড় ডেলিভারি ট্রাক আমার বাড়ির সামনে এসে থামলো । আমি আর আমার মেয়ে তখন ঘরে ছিলাম । ডেলিভারি ম্যান একটি বড় বক্স দিয়ে গেলো । আমরা খুলে দেখি বাক্সের ভিত্রে লম্বা লম্বা কাগজ – পত্র দিয়ে মুড়ে রাখা হয়েছে । বাক্সের নিচে দেখলাম একটি খাম পড়ে আছে , আমরা যে প্রোডাক্ট অর্ডার দিয়েছি তা ঘামে করে ডেলিভারি দেয়া হয়েছে । তা দেখে আমরা তৎক্ষণাৎ বললাম , ” কি পরিমাণ অপচয় !! একটা খামের জন্য এতো বড় বাক্স !”
ইকমার্স এখন মোট রিটেইল সেলের ৮.৩% বিক্রি হয় অনলাইনে । গত এক দশক ধরে এই হার আস্তে আস্তে বাড়ছে । নিঃসন্দেহে , আগামি এক দশক পরে এই হার আরও বাড়বে । অনলাইন শপিং এর কারনে শপিংমলগুলো এখন ধার দেনার মধ্যে পরে গিয়েছে ,
অনেক কেনাকাটায় , যেমন টিকিট , ট্রাভেল টিকিটে প্যাকেজিং করা দরকার পরে না ।আবার অনেক প্রোডাক্টের দরকার হয় । ইলেক্ত্রনিক্স প্রোডাক্ট , কাপড় এবং অন্যন্য জিনিষ এখন অনলাইনে বেশি চলে । আপনই চাইবেন ভাল প্যাকেজিং করে প্রোডাক্টকে নিরাপদে রাখতে । যদি ভালভাবে কোন প্রোডাক্ট যদি হাতে না পায় তাহলে কে অনলাইন থেকে পণ্য কিনবে ?
ইকমার্স নতুন নয় । এটি ধারাবাহিক ভাবে চলে এসেছে । যখন আমি ছোট ছিলাম । Sears এবং Montgomery Ward এর ক্যাটালগ এমেরিকার ঘরে ঘরে ছিল । তারা সব ধরনের পণ্য বিক্রি করতো । কিন্তু , অর্ডার করে তা হাতে পেতে কয়েকসপ্তাহ অপেক্ষা করতে হতো । অন্যদিকে , ইকমার্স তাৎক্ষনিক ডেলিভারীর গ্যারান্টির নিশ্চয়তা দিয়ে থাকে । সেইজন্য আপনারা মাঝে মাঝে ছোট কোন প্রোডাক্টের জন্য বড় প্যাকেজিং দেখবেন । যতই প্যাকেজিং থাকুক , কাস্টমারদের খুশি করার জন্য পরিবহনকারি সময়মতন ডেলিভারি দিয়ে থাকে । অনলাইন কোম্পানিগুলো তাদের সাপ্লাই লজিস্টিক এর উন্নতই করলে এই সমস্যাগুলো চলে যাবে ।
কিন্ত এই ধরনের বিক্রয়ের মধ্যে যে অপচয় এবং পুনর্ব্যবহার ফলে কি ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে ? সম্প্রতি , আমি দুইটি মিডিয়ায় এই প্রশ্ন করেছিলাম । সাংবাদিকরা ,জানতে চেয়েছিল , তারা এই ধরনের নষ্ট বক্সগুলো কি পুনঃব্যবহারের জন্য কি নেয়া হয় ?
ecommerce-1
না , তারা তা করে না । বানিজ্যিক recycling প্রোগ্রামগুলো কুঁচকানো বক্সগুলো বছরের পর বছ্ট সংগ্রহ করে থাকে । তাদের সেইগুলো সংগ্রহ করতে বা প্রসেসিং করতে কোন সমস্যা হয় না । ইকমার্স কোম্পানির ডিস্ট্রিবিউশন সেন্টারগুলোতে তারা এইসব কাগজগুলো সাপ্লায় দিয়ে থাকে ।
আবাসিক কাজকর্মের জন্য এই বাক্সগুলো কিছু সমস্যা তৈরি করেছে । এইগুলো আমরা দুই দশক আগে blue box এর সাথে এর সাথে আমরা ব্যবহার করতাম ।
ইকমার্সের এই আবির্ভাব আমাদেরকে কিভাবে বক্স ব্যবহার করতে হয় তা শিখিয়েছে । বাসিন্দারা এই বক্স ভাঙ্গে না , সেগুলো ট্রাকে জায়গা করে নেয় , সেগুলো পরিবর্তন করার জন্য প্রসেসিং এর দরকার হয় । কিন্তু পুরান কুঁচকানো কন্টেইনারগুলো যখন রিসাইক্লিং করে কোম্পানিগুলো নিয়ে নেয় , তারা প্রসেসিং এর জন্ত খরচ কমাতে পারে ।
ইকমার্স এমেরিকান পেপারবোর্ডের জন্য আশির্বাদস্বরূপ । যখন , এই বিশাল বক্সগুলো বিদেশ থেকে প্রডাক্ট আনতে কাজে লাগানো হয় , ছোট ছোট বক্স যেগুলোতে করে প্রোডাক্ট পাঠানো হয় তা এই দেশেই তৈরি করা হয় । কিছু কিছু নিউজপ্রিন্ট মিলগুলো লাইনারবোর্ড বা নতুন বক্সও বানাচ্ছে ।
কিন্তু ইকমার্সের বড় ব্যর্থতা হচ্ছে পণ্য ফেরত পাঠানো । যখন আপনি কোন প্রোডাক্ট শপিংমল থেকে কিনবেন , আপনি তা কাছ থেকে দেখতে পারবেন , যাচায় বাছায় করে দেখতে পারবেন । যখন আপনি অনলাইনে ছবি দেখে যা কিনছেন , তা বাস্তবে যখন হাতে আসে তার সাথে মিল থাকে না । কারণ তারা তা করে না , সেজন্য অনলাইন ক্রেতারা দুই থেকে তিনবার প্রোডাক্ট ফেরত পাঠায় , যা শপিং মল , দোকানে খুব কম হয়ে থাকে । আমি শুধু ভাবি , ঐসব প্রোডাক্টগুলো যেগুলো ফেরত আসে সেগুলোর কি অবস্থা হয় ? আমরা যা পরিশোধ করি তা কি সেইসব পণ্যের মুল্য?
আমাদের সেই ইনভেলাপে প্রডাক্তের সাথে যে পেপার করা এসেছিল , তা সপ্তাহের শেষে রিসাক্লিং এর জন্য পাঠিয়ে দেয়া হয়েছে ।

ফেইসবুক group :  Business Ecommerce Content Association In Bangladesh (BECAB) 

 

source : http://www.waste360.com/paper/impact-e-commerce

Comments

comments

About The Author



Hi , My name is Partho Pratim Mazumder . I am passionate of blogging ,Writing , Seo Analyst . Tech, E-commerce are favorite topics . I am passionate in literature too .Glad to be connect : https://web.facebook.com/parthopratimmazumder

No Comments

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *