১৫০ টি লেখা, ই-ক্যাব এবং আমি : জাহাঙ্গীর আলম শোভন

1824

১৫০ টি লেখা, ই-ক্যাব এবং আমি

জাহাঙ্গীর আলম শোভন

 

ই-ক্যাবের বয়স দুইবছর হতে চলেছে। সদস্যসংখ্যা চারশো হয়ে গেছে। ই ক্যাব ব্লগে মোট লেখার তিনশ ষাটটির মতো। আমি অধমের ১৫০টি আগম বাগম লেখা আছে। এটাই ১৫০ তম লেখা  ই- ক্যাবের ব্লগে। ই-ক্যাব ব্লগ এখন ভারত, বাংলাদেশে ও তৃতীয় বাংলা লন্ডন শহর মিলিয়ে সব বাংলাভাষীদের জন্য এখন ইউনিক একটা প্লাটফরম। ই-কমার্সের বিভিন্ন দিক নিয়ে একাধিক লেখা রয়েছে এই ব্লগে। ‍

একদিকে এখানে লেখাও ই-কমার্স রিলেটেড তেমনি পাঠকও ই-কমার্স রিলেটেড সে হিসেবে বলা যায়। এখানে কোনো লেখা যদি ১ হাজার পাঠক পাঠ করেন। তাহলে এটা একটা বিশাল ব্যাপার। কারণ এই একহাজার পাঠক হয়তো ই-কমার্স করেন, নইলে করবেন অথবা করার কথা ভাবছেন। ভাবতেই ভালো লাগে আমি এমন একটা প্লাটফরম পেয়েছি।

11036898_10153253188824618_7189440623716838939_n

সবার মতো কম বয়সে আমিও গল্প কবিতা লিখেছি। কিন্তু একসময় আমার মনে হলো, গল্প কবিতা লেখার অনেক মানুষ আছে। কিন্তু মানুষের প্রয়োজনীয় বিভিন্ন দিকনির্দেশনা এক কথায় জীবনমুখী লেখার মানুষ নেই। তো একদিকে আমি জীবনমুখী লেখা শুরু করলাম। অন্যদিকে নিজের ‍জন্য কিছু একটা করবো সে ভাবনায় ২০১০ সাল থেকে ই কমার্স নিয়ে ভাবনা শুরু করলাম। লেখাপড়া চিন্তাভাবনা, আলাপ আলোচনা ইত্যাদি। তখন মোবাইল ব্যাংকিং ছিলো না। কার্ডেও লেনদেন করা যেতনা বোধহয়। ‍মোবাইল থেকে ১০ টাকার বেশী ট্রান্সফার করা যায়না। সেটাও করতে বিটিআরসির নানা প্রক্রিয়ার মাধ্যমে করতে হয়। তার কিছেুদিন আগে পরে লটারীর টিকেটটা মোবাইলে কেনা শুরু হলো মাত্র। আর একই অপারেটরে ব্যালেন্স ট্রান্সফার করা যেত। আমরা যারা তখন এগুলো নিয়ে ভাবছিলাম। আমরা একবার চিন্তা করলাম যে, মোবাইল ট্রান্সফারের মাধ্যমে করা যায় কিনা। সেটা সম্ভব নয়। কারণ আপনি টাকা ক্যাশ করতে পারবেন না। এভাবে চলতে থাকলো গবেষণা। পাশাপাশি নাম ধাম ডোমেইন হোস্টিং ই কমার্স সাইট ইত্যাদিও নিয়েও নানা পরীক্ষা নিরীক্ষা। ই ক্যাবের জয়েন্ট সেক্রেটারী আমি আর জামি ভাই অসংখ্য মিটিং করেছি এসব বিষয়ে।

12189148_767393136740511_4853065176292625864_n

এর মধ্যে প্রবাসীরা কিছু ই-কমার্স বিজনেজ শুরু করলো। সেগুলোর সাথে ‍প্রত্যক্ষ এবং পরোক্ষভাবে থেকে দেখলাম শুনলাম বুঝলাম আর শিখলাম। কিন্তু নিজে ই-কমার্স করতে পারলাম না।

আমার অবশ্য ভার্চুয়াল পন্যের একটা ব্যবসায় রয়েছে। যদিও আমি আমার লেখায় সেটা শেয়ার করিনা। কনটেন্ট ব্যবসায়টা আমি করতে থাকলাম। এটা খুবই ছোট ভলিওম তাই ‍আমার চাকরীটাও চালিয়ে গেলাম। ওটা দিয়েই আমি ই-ক্যাবের মেম্বার।

13346718_10207428445643142_1515338887063418868_n

ই ক্যাব শুরু হলে। ফেসবুকে প্রশ্নোত্তর ও লেখা শুরু হলো। আমি কয়েকটা লেখার পর। প্রেসিডেন্ট রাজিব আহমেদ ভাই ব্লগে লেখা দিতে বললাম। দিলাম। দেখাগেলো লেখাগুলো খুব জনপ্রিয়। একহাজার সদস্য পেজে অথচ লেখা তিনদিন একশবার পড়া হতো। চার পাঁচটা মন্তব্য হতো। সবাই বলতো পড়ে উপকৃত হয়েছে। ব্যস আমিও লিখতাম। প্রায় ৩৫ টি লেখা পোস্ট করার পর রাজিব ভাইর সাথে আমার প্রথম দেখা হয়। এবং ৫০টির মতো লেখা পোস্ট করার পর আমি ই ক্যাবের প্রথম কোনো অনুষ্ঠানে যাই। যদিও এরমধ্যে মেম্বার হয়ে গেছিলাম।

বাংলাদেশের প্রায় প্রথমশ্রেনীর সব পত্রিকায় আমার এক বা একাধিক লেখা প্রকাশিত হয়েছে। তা থেকে পরিচিতটা এত আসেনি। কতো লেখা প্রতিনিদন কতো কাগজে বের হয়। মানুষ কতজনকে মনে রাখবে। কিন্তু এখানে দেখা গেলো সবাই আমাকে চেনে। এতে খুব অন্রপ্রানীত হলাম। বিশেষ করে রাজীব ভাই তখন প্রতিদিন আমার লেখা শেয়ার করতো।

shovo

অন্যকাগজ গুলোতে লিখতে আমি স্বাচ্ছন্দবোধ করতাম না। কারণ দলীয় কাগজ না থাকলেও কাগজগুলো ‍এখনো ডানপন্থী বামপন্থীতে বিভক্ত। বামপন্থী কাগজগুলো তাদের নিজস্ব ঘরানার লেখকদের লেখা প্রকাশ করতে পছন্দ করে। কালেভদ্রে কিছু লেখা হয়তো অন্যদের প্রকাশ করা হয়। বিশেষ করে আমি লোকসাহিত্য নিয়ে লিখতাম বলে আমার লেখা ছাপা হতো কারণ এ বিষয়ে খুব বেশী মানুষ লিখতো না। ‍আবার ডানপন্থী পত্রিকাগুলোরও একই সমস্যা। আবার আমি যদি যেকোনো এক ধরনের পত্রিকায় লিখি তাহলে ‍লোকেরা আমাকে সে দলে ফেলে দেবে এবং সাধারণ মানুষের সাথে দূরত্ব তৈরী হবে।

11261209_614453832028874_4043781450164209652_n

২০০৯ সাল থেকে ব্লগগুলোতে লিখতে শুরু করলাম। এর মধ্যে কিছু পথভ্রষ্ট ব্লগার ধর্ম নিয়ে উল্টাপাল্টা লিখে পুরো পরিবেশটাকেই নষ্ট করে দিলো। ‍আবার ওখানে ধর্ম ও রাজনীতি নিয়ে লেখা যেভাবে জনপ্রিয় সেখানে ব্যবসায় বাণিজ্যের লেখা তেমন জনপ্রিয় নয়। এখনো সেখানে আমার লেখাগুলোর পাঠক খুব বেশী নয়। আর ই-ক্যাবে এমনও নজীর আছে ২ দিনে ১০ হাজারবার পড়া হয়েছে লেখা। বেশকিছু ব্লগ শুধু ধর্মবিরোধী লেখাই প্রকাশ করে। আবার অনেক ব্লগ আমার মনে হলো বিতর্কিত হবে এমনলেখাগুলোকে এসইকরে বা অন্যকোনো ভাবে সামনে নিয়ে আসে। আমার অন্তত তাই মনে হলো। জানি না আসলে কাহিনীটা কি? বিষয়টি মোটেও ভালো লাগেনি আমার।

সবচেয়ে বড়ো বিষয় হলো আমাদের সদস্যদের মধ্যে প্রত্যেকের সাথে প্রত্যেকের সম্পর্ক পরিচিত ও  আন্তরিকতার যে সম্পর্ক সেটা অন্য কোথাও নেই। এবং আমরা অনেকেই এখানে বন্ধু শুভাকাংখী এবং ব্যবসায়িক পার্টনার পেয়েছি।

শোভন

আমি যখন পায়ে হেঁটে তেঁতুলিয়া থেকে টেকনাফ সফরর করেছি। তখন ইক্যাবকে অফিসিয়ালী পাইনি, আমি সেটা চাইওনি, দরকারও ছিলো না আর সেটা ই ক্যাবের জন্য সেটা প্রাসঙ্গিকও ছিলনা। কিন্তু স্মন্সর, পার্টনার, প্রচার থেকে শুরু করে সব সহযোগিতা পেয়েছি ই- ক্যাব থেকে। স্পন্সর ছিলো www.tour.com.bd, Partner: www.dinratri.com, www.keenlay.com, www.walletmix.com. ই ক্যাবের দুইভাই মোহাম্মদ আশরাফ আলী ও রুহুল কুদ্দুছ ছোটন ভাই ছিলেন কমিউনিকেশান ম্যানেজার ও ফটোগ্রাফী পার্টনার। বাংলাদেশ পর্যটন কর্পোরেশন ছিলো সহযোগী এজন্য www.journeyplus.com এর তৌফিক রহমান এবং ই ক্যাব সেক্রেটারী আব্দুল ওয়াহেদ তমাল ভাইর সহযোগিতা ছিলো।

আরো অনেকে অনেকভাবে সাথে ছিলেন। এবং বিভিন্ন জেলায় ই-ক্যাব মেম্বারদের সাক্ষাৎ সহযোগিতা ও ভালোবাসা পেয়েছি। খুব সহজ করে বলতে গেলে আগে যারা এ ধরনের পায়ে হেঁটে ভ্রমণ করেছেন তারা কেউ একটা সহযোগিতা পায়নি। ই ক্যাবের মেম্বারদের কাছ থেকে সেগুলো আমি নিতে পেরেছি। তাহলে যারা প্রশ্ন তোলেন যে ই ক্যাব থেকে কি পাবো । এটা তাদের জন্য একটা উদাহরণ হতে পারে। হতে পারে ই-ক্যাব সরাসির দেয়নি। আসলে পাওয়ার জায়গা থাকলে সরাসরি দিতে হয়না। আবার এটাও মনে রাখতে হবে। এমনি এমনি কোনো কিছু হয়ে যায়না। ‍যখন আমি সফরে যাই তখন ১৩৫ টির মতো লেখা আমি ইক্যাব ব্লগে দিয়েছি। আমি হয়তো কোনো বিনিময়ের পাওয়ার জন্য দিইনি। কিন্তু তারপরও ই ক্যাব থেকে যে ভালোবাসা পেয়েছি। সেটাই বা কম কিসের?

13179275_1743222365913754_5309287826295702888_n

অবশ্য সফরে আমার এলাকার মানুষ, মিডিয়া বন্ধু এবং প্রায় অর্ধশতাধিক সামাজিক সংগঠন আমার পাশে ছিলো। আমি যাদের সাথে কার করেছি বিভিন্ন সময়ে।

আমার কাছে ই-ক্যাবের প্লাটফরমটাকে এতবেশী ভালোবাসার জায়গা মনে হয় এজন্য যে, এখানে কোনো রাজনীতি নেই। আমাদের দেশে রাজণীতি এতই নোংরা ভাইকে ভাই খুন করে। স্বামী স্ত্রীকে তালাক দেয়। ‍এখানে আমরা সবাই ভাই ভাই। আমরা কখনো জানতেও চাইনি কার রাজনীতিক দৃষ্টিভঙ্গি কি?

সূতরাং আজ আমার সাফল্যের পেছনে অনেক কৃতিত্বের দাবীদার ই ক্যাব। জামি ভাইর কথা আলাদা করে বলতে হয় কারণ ইনি আমাকে ই ক্যাবের সাথে পরিচয় করিয়েছেন। আর রাজীব ভাইর কথা বলতে হয় কারণ তিনি উৎসাহ দিয়েছেন। আমাকে টাকা দেয়ার চেয়ে উৎসাহ দিয়ে কাজ করানো যায় বেশী। ‍এটা মনে হয় রাজিব ভাই বুঝতে পেরেছিলো।

13501661_10153884744438541_3414796262185842496_n

এখন সফরের উপর বই লিখেছি। সেটা প্রকাশ হবে আগামী বই মেলা। ট্যুরিজম ই কমার্স ও অনুপ্রেরনামূলক গল্প লেখার আবদার আছে। সেইবইগুলো আস্তে আসবে। ই ক্যাব আমাকে যেটা দিয়েছে সেটা একটা আত্মবিশ্বাস। ই ক্যাবে অনেক লিখেছি, বুঝলাম ‘‘আমাকে দিয়ে হবে’’। সবাই লেখাগুলো পছন্দ করেছে, বুঝলাম ‘‘আমি যা ভাবছি’’ তার লাইনআপ ঠিক আছে। সূতরাং কাজ করা যায়। তাই সময় পেলে এখনো কাজ করে যেতে চাই ই ক্যাবের জন্য, আপনাদের জন্য, পাঠকদের জন্য। ইতোমধ্যে বেশ কয়েকটা ওয়ার্কশপে আপনাদের সাথে আমার জ্ঞানটাকে শেয়ার করেছি। আমি কোনো সফল ব্যবসায়ী নয় আমি অতোবেশী কিছু জানি না। কিন্তু যতটা জানি ততটা যদি নতুন উদ্যোক্তাদের কোনো কাজে লাগে তাতেই আমি খুশি।

13669665_10210595133100974_2906264910244913262_n

সবকিছু যে ভালোয় হয়ে গেছে, তা কিন্তু নয়। গুটিকয়েক লোক বিরোধিতা করেছে। অপপ্রচার করেছে। বাঁকা চোখে দেখেছে। এবং ব্যক্তিগতভাবে আক্রমণ করেছে। এমনকি ই ক্যাবের ব্লগে লিখতে নিষেধ করেছে।  কিন্তু আমি আমার মতো কাজ করে গেছি। তবে গত বছরের তুলনায় এই বছর ই ক্যাব ব্লগে লেখার কাজে খুব বেশী সময় দিতে পারিনি। নানাবিধ ব্যস্ততা ও ট্যুরিজম বিষয়ক লেখালেখির কারণে। এ বছর পর্যটন বিষয়ে শতাধিক লিখ লিখতে হয়েছে আমাকে। আমার সফর সফল হয়েছে ঠিকই। সেটা স্বার্থক হওয়ারও প্রয়োজন রয়েছে। পায়ে হেঁটে দেশদেখা সফল হওয়ায় ই ক্যাবের পক্ষ থেকে আমাকে সম্মাননা জানোনোর কারণে আমি ই ক্যাবের ইসি মেম্বারসহ সকলের কাছে কৃতজ্ঞ। দুইটি বছর সঙ্গে থাকার জন্য আপনাদের সকলের কাছে আমি কৃতজ্ঞ। আশা করি আগামী দিনগুলোতেও একসাথে থাকতে পারবো।

Comments

comments

About The Author



Freelance Consultant, Writer and speaker . Jahangir Alam Shovon has been in Bangladeshi Business sector as a consultant, He has written near about 500 articles on e-commerce, tourism, folklore, social and economical development. He has finished his journey on foot from tetulia to teknaf in 46 days. Mr Shovon is social activist and trainer.

No Comments

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *