“আমরা ব্রেনো.কমকে বাংলাদেশের অন্যতম জনপ্রিয় ই-কমার্স সাইট হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে চাই”-রাজীব রায়, সিইও, রয়েক্স টেকনোলজিস অ্যাণ্ড ব্রেনো.কম

518

রাজীব রায় রয়েক্স টেকনোলজিস এবং ব্রেনো.কম এর সিইও। তিনি বিগত আট বছর ধরে দুবাইতে আছেন এবং সেখানে চারটি আইটি ব্যবসা রয়েছে তাঁর। তিনি একজন সফল উদ্যোক্তা। কন্টেন্ট.কম (http://quontent.com) নামে একটি ওয়েবসাইটের জন্যে তিনি ১মিলিয়ন ডলারের বিনিয়োগ যোগাড় করেন। দুবাইয়ের পাশাপাশি বাংলাদেশে তিনি রয়েক্স টেকনোলজিস (www.royex.net) এবং ব্রেনো.কম (www.branoo.com) নামে দুটি সফল ব্যবসা প্রতিষ্ঠান পরিচালনা করছেন। আগামী বছরে তিনি বিদেশি বিনিয়োগে বাংলাদেশে আরেকটি নতুন ব্যবসা শুরুর উদ্যোগ নিয়েছেন। সম্প্রতি ই-ক্যাব এর সভাপতি রাজিব আহমেদ অনলাইনে তার একটি সাক্ষাৎকার গ্রহণ করেন।

rajib roy image

রাজিব আহমেদঃ কমার্স ব্যবসায় আসতে কেন আগ্রহী হলেন?

রাজীব রায়ঃ আমরা মূলত সফটওয়্যার ডেভেলপ করে থাকি। দুবাই,অস্ট্রেলিয়া এবং বাংলাদেশে আমাদের ডেভেলপমেন্ট ফার্ম আছে। গত একবছরে আমরা যত ওয়েবসাইট ডেভেলপ করেছি তার ৬০%-ই হল ই-কমার্স সাইট। যেকোন প্রজেক্ট শুরু করার আগে প্রজেক্ট ভাল করে বোঝার জন্য আমরা কিছু প্রশ্ন করে থাকি, যেমন-সাইটটি করার মূল উদ্দেশ্য কি? কারা সাইটটি ব্যবহার করবে এবং কেন করবে? ন্যূনতম কি থাকবে যা মানুষকে আর্কষণ করবে? ইত্যাদি। এ ধরনের প্রশ্ন করতে করতে ই-কমার্স ব্যবসার প্রতি আমার ঝোঁক তৈরি হয়। পরে মার্কেট নিয়ে পর্যালোচনা করি এবং সিদ্ধান্ত নেই যে বাংলাদেশেই শুরু করব। এছাড়া আমার স্ত্রী প্রথম থেকেই উৎসাহ দিয়েছে এবং সেও এই ব্যাবসায় প্রত্যক্ষ ভাবে জড়িত।

রাজিব আহমেদঃ আপনার কোম্পানি কি ধরনের সেবা দিয়ে থাকে?

রাজীব রায়ঃ আমরা মূলত আসল ব্র্যান্ডের পণ্য বিক্রি করে থাকি।আমাদের পণ্য গুলোর মধ্যে প্রধান হচ্ছে- কসমেটিক্স, পারফিউম এবং ঘড়ি।

রাজিব আহমেদঃ কমার্স সাইটটি চালাতে গিয়ে আপনাদের কি ধরণের সমস্যার মোকাবেলা করতে হচ্ছে?

রাজীব রায়ঃ সমস্যা অনেক। তার মধ্যে কয়েকটি আমি এখানে তুলে ধরতে চাই-

#পণ্য ডেলিভারি– যেহেতু আমরা ক্যাশ-অন-ডেলিভারি (সিওডি) করে থাকি তাই কুরিয়ার কোম্পানির উপর আমরা অনেকটাই নির্ভরশীল।কুরিয়ার কোম্পানির ডেলিভারি প্রক্রিয়া মোটেই মানসম্পন্ন নয়, পণ্য কোথায় যাচ্ছে? কিভাবে আছে? অর্থাৎ পণ্যটি ট্র্যাকিং করার কোন ব্যবস্থা নাই, বাইরের দেশে পণ্যের বিপরীতে ইনসিওরেন্স থাকে-যাতে কোন পণ্য হারালে বা নষ্ট হয়ে গেলে টাকা ফেরত পাওয়া যায়। কিন্ত বাংলাদেশে এধরনের কোন সুবিধা নেই।

#সচেতনতার অভাব-আমাদের বাজার ই-কমার্স সম্পর্কে এখনো সেরকমভাবে শিক্ষিত নয়। অনলাইন থেকে কেনাকাটা করার সুবিধা বা কেনাকাটা করার পদ্ধতি সম্পর্কে অনেকেই ওয়াকিবহাল নন।

#অভিজ্ঞ লোকবলের অভাবই-কমার্স বা এ ধরনের প্রতিষ্ঠানে কাজ করার মতো দক্ষ এবং অভিজ্ঞতা সম্পন্ন লোকবল পাওয়া খুব কঠিন।

রাজিব আহমেদঃ চট্টগ্রামে কমার্স সেক্টরের বর্তমান অবস্থা নিয়ে আপনার মূল্যায়ন কি

রাজীব রায়ঃ চট্টগ্রামের অবস্থা খুব একটা আশা উদ্দীপক না। সাধারণভাবে বলি আমাদের ৯৭% ডেলিভারি হয় ঢাকাতে, বাকি ৩% এর ২% হয় চট্টগ্রামে এবং ১% হয় অন্যান্য শহরে। বাংলাদেশে যে এখন অনলাইনে কেনাকাটা করা যায় এ সম্পর্কে চট্টগ্রামের অনেকেই জানেন না।

রাজিব আহমেদঃ চট্টগ্রামের কমার্স খাতের উন্নয়নে কি করা দরকার বলে আপনি মনে করেন

রাজীব রায়ঃ চট্টগ্রামের প্রধান সমস্যাই হল সচেতনতার অভাব। তাই চট্টগ্রামের ই-কমার্স  সেক্টর উন্নত করতে চাইলে চট্টগ্রামের সব ই-কমার্স প্রতিষ্ঠানকে এক হয়ে কাজ করতে হবে। স্কুল, কলেজ ,বিশ্ববিদ্যালয় এবং শপিংমলগুলোতে প্রচারণা চালাতে হবে। ঘন ঘন মেলার আয়োজন করা যেতে পারে যা চট্টগ্রামের ই-কমার্স সাইট গুলোর উপস্থিতি সবাইকে জানিয়ে দিবে।

রাজিব আহমেদঃ আপনি দুবাইতে থাকেন দুবাই এর সঙ্গে বাংলাদেশের কমার্স সেক্টরের তুলনা কিভাবে করবেন?

রাজীব রায়ঃ প্রথম কথা হল, বাংলাদেশের তুলনায় দুবাই অনেক ম্যাচিউর মার্কেট।কিন্তু বাংলাদেশের ই-কমার্স সেক্টর অনেক সম্ভাবনাময়।

দুবাই এবং বাংলাদেশের মধ্যে কিছু পার্থক্য উল্লেখ করছি- প্রথমেই বলি ওয়েবসাইটের কথা। বাংলাদেশের প্রথম সারির ই-কমার্স সাইটগুলোও কিন্ত খুব একটা মানসম্পন্ন নয়, অন্যদিকে দুবাইয়ের ই-কমার্স সাইটগুলো দেখলে পেশাদারিত্বের এবং নান্দনিকতার ছাপ বুঝা যায়।

দুবাইয়ের ই-কমার্স সাইটে পণ্য কেনা থেকে শুরু করে পণ্য ডেলিভারি দেয়া পর্যন্ত প্রতিটি ধাপই খুব সুন্দর ভাবে নিয়ন্ত্রণ করা হয়। ডেলিভারি দেওয়ার পরও ভোক্তাদের কাছে থেকে ফিডব্যাক নেওয়া হয় যাতে করে তাদের সেবা প্রদানের মান  আরও উন্নত করা যায়।

দুবাইয়ের ৭০% কেনাকাটা হয় ক্রেডিট কার্ডের মাধ্যমে আর বাকি ৩০% হয় সিওডি এর মাধ্যমে, কিন্ত প্রতিটি ক্ষেত্রে ব্যাঙ্ক পণ্য ডেলিভারি এবং সিওডি এর নিরাপত্তার জন্য ইন্স্যুরেন্স এর সহায়তা দিয়ে থাকে। যার ফলে ব্যবসায়িক খরচ বেড়ে যায় কিন্ত কোন ঝুঁকি থাকে না।

রাজিব আহমেদঃ বেশ কয়েকটি বড় কমার্স কোম্পানি বাংলাদেশে আসছে বিনিয়োগ করতে তাদের সঙ্গে প্রতিযোগিতায় টিকে থাকার জন্য দেশি কোম্পানি গুলোর কি কি পদক্ষেপ নেয়া উচিত?

রাজীব রায়ঃ বিদেশী কোম্পানি বাংলাদেশে আসা একটি শুভ লক্ষণ। আমি এটাকে বাংলাদেশের ই-কমার্স খাতের জন্যে ইতিবাচক ব্যাপার হিসেবে দেখি।বিদেশী কোম্পানী যেকোন দেশে গেলেই প্রথমে তারা কিছু স্থানীয় প্রতিষ্ঠানকে কিনে নেয়। তাই স্থানীয় প্রতিষ্ঠানগুলো নিজেদেরকে বিদেশী কোম্পানির সাথে একীভূত  করার উপযোগী করে প্রস্তুত করতে পারে। এতে বিশাল অঙ্কের টাকার লেনদেন হয় যা যেকোনো দেশী কোম্পানির জন্য ভাল।

আর যদি প্রতিযোগিতা করতে হয় তার জন্য প্রয়োজন বিশাল বিনিয়োগ এবং এখন থেকেই ঠিক করতে হবে কি করে বিনিয়োগ পাওয়া যায় এবং কোন সেক্টরে বিনিয়োগ করতে হবে।বিদেশী কোম্পানি ১০০ কোটি টাকা বিনিয়োগ করলেই যে স্থানীয় কোম্পানিকে ১০০ কোটি টাকা বিনিয়োগ করে প্রতিযোগিতা করতে হবে তা কিন্ত ঠিক না। সঠিকভাবে বিনিয়োগ করলে ১০০ কোটি টাকার বিনিময়ে ১ কোটি টাকায় কাজ করা সম্ভব।

বিদেশে অনেক কোম্পানি স্ট্র্যাটেজিক কন্সালট্যান্ট নিয়োগ করে শুধুমাত্র বিনিয়োগ সঠিকভাবে ব্যবহার করার জন্য, আমরাও তা করতে পারি।

রাজিব আহমেদঃ  আপনার প্রতিষ্ঠানের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা কি?

রাজীব রায়ঃ আমাদের পরিকল্পনা অনেক। আমরা শুধুমাত্র ব্যবসা করার জন্য branoo.com চালু করিনি, বরং আমরা বাজার বৃদ্ধি এবং বিভিন্ন বিষয়ে গবেষণা করতে চাই।আমরা সবেমাত্র শুরু করেছি।এখন আমরা বাজার সর্ম্পকে জানছি এবং অভিজ্ঞতা নিচ্ছি। হয়ত আর তিন মাস পর থেকে আমরা আমাদের সম্পূর্ণ কার্যক্রম শুরু করব।কিছু পরিকল্পনার কথা এখানে উল্লেখ করছি-

#আরো বিভিন্ন নতুন পণ্যের ক্যাটেগরি যুক্ত করে আমাদের সাইটকে আরও বড় করতে চাচ্ছি। আমরা ব্রেনো.কমকে বাংলাদেশের অন্যতম জনপ্রিয় ই-কমার্স  সাইট হিসাবে দেখতে চাই।

# বাজার উন্নয়নের জন্য বিভিন্ন কার্যক্রম শুরু করার পরিকল্পনা আছে। আমরা আসলে এ খাতে বিনিয়োগ করতে চাচ্ছি এবং ই-ক্যাবকে আমাদের সাথে পেলে আরও সহজে কাজ করতে পারব।

# ই-কমার্সের উপর কিছু স্বল্পমেয়াদী কোর্স/ওয়ার্কশপ চালু করতে চাচ্ছি, যা ই-কমার্সে লোকবলের ঘাটতি কিছুটা হলেও পূরণ করবে।

 রাজিব আহমেদঃ দুবাই থেকে আমাদের ব্লগের জন্য সাক্ষাৎকার ও সময় দেবার জন্য অনেক ধন্যবাদ। 

রাজীব রায়ঃ আপনাকে অনেক ধন্যবাদ এই সুন্দর প্রশ্নগুলো করার জন্য এবং অগ্রিম ধন্যবাদ যাঁরা এই সাক্ষাৎকারটি পড়বেন। পরিশেষে বাংলাদশের ই-কমার্স সেক্টরের উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ কামনা করছি।

রাজীব রায়ের সাথে যোগাযোগ করতে চাইলে https://www.facebook.com/IamRajibRoy

 

Comments

comments

No Comments

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *