অল্প পুঁজিতে কিভাবে বিজনেস শুরু করতে পারবেন

5480
untitled-1

এ লেখাটা তাদের ই জন্য যারা শুরু করতে চাচ্ছেন। একদম ছোট করে। সবার প্রথমে এটাই বলতে চাই ইচ্ছাশক্তিটাই সবার আগে লাগবে এর পর বাকি সব কিছু।

সার্ভিসমূলক বিজনেস করেন

আগের লেখাতে ও এরকম একটা পয়েন্ট দিয়েছিলাম যে সার্ভিস ভিত্তিক কাজ করার জন্য, আপনি অনেক টাকার মাধ্যমে প্রোডাক্ট কিনলেন সেল করতে পারলেন না এটা প্রথমেই আপনার জন্য ভালো হবে না তাই সার্ভিস ভিত্তিক কিছু করা যায় কিনা দেখেন, যদি ই কমার্স লাইন এ হয় তাহলে ফেসবুক মার্কেটিং করতে পারেন, এমন প্রোডাক্ট সেল করতে সেল করতে পারেন যা আপনাকে অর্ডার করার পর ই বানাতে হবে অথবা কিনতে হবে যেমন শপিং ব্যাগ অথবা খাদ্যদ্রব্য। এভাবে শুরু করেন, দেখেন কেমন হয় এরপর জখন দেখবেন আপনার পেজ থেকে সেল হচ্ছে, আপনি বিশ্বাসযোগ্যতা অর্জন করতে পারছেন তখন বড় ভাবে শুরু করেন।

ওয়েবসাইট হিসেবে ফেসবুক ব্যবহার করেন

আমার মনে হয় না প্রথমেই আপনার ওয়েবসাইট দরকার পড়বে, আপনি ফেসবুক এর একটা পেজ খুলে নেন, ফেসবুক এ আপনি প্রোডাক্ট এর পোস্ট করতে পারবেন, অ্যালবাম বানাতে পারবেন, অন্য পোস্ট করতে পারবেন, কমেন্ট এ অথবা মেসেজে আপনার ক্রেতার সাথে যোগাযোগ রাখতে পারবেন, আরো অনেক কিছু। তাই ওয়েবসাইট এ আপাতত দরকার আছে বলে আমার মনে হয় না। আর সব থেকে মজার ব্যাপার হচ্ছে আপনার ওয়েবসাইট থাকলে ও সেটা ফেসবুক এ মার্কেটিং করতে হবে

প্রথমেই অফিস নেয়ার দরকার নাই

বিজনেস এর শুরুতেই অফিস নিলেন, প্রথম মাস থেকেই আপনার ভাড়া গুনতে হবে, আর প্রথম মাসে কি আপনার সেই টাকা আসবে? এখানে আপনার প্রস্তুতির ও দরকার আছে, তাই প্রথমে ঘর থেকেই শুরু করেন, আপনার একটা ফেসবুক পেজ তো আছেই, আপনি যদি টিম এর মাধ্যমে কাজ করতে চান তাহলে তাদের সাথে বাইরে কোন রেস্টুরেন্ট এ দেখা করতে পারেন, সুযোগ থাকলে আপনার বাসাতেই। অনেকেই জানতে চাইতে পারে অফিস আছে কিনা সে ক্ষেত্রে সত্যি কথাই বলেন আর তাকে আপনার বাসার অ্যাড্রেস দিতে পারেন যদি সে মনে করে সে আপনার সাথে যোগাযোগ করবে। অফিসের পিছনে ইনভেস্ট না করে সম্পর্কের প্রতি করেন, টাইম এর প্রতি করেন।

লিফলেট, অ্যাড ইত্যাদি ইত্যাদি না

অনেকেই বিজনেস এর শুরুতেই লিফলেট, টিভি অ্যাড ইত্যাদি ইত্যাদির জন্য টাকা খরচ করে এটা না জেনেই যে সে যে বিষয় নিয়ে কাজ করবে সেটা আসলেই কাজ করবে কিনা, তাই প্রথমে এদিকে খরচ না করে আপনার সময় খরচ করেন, বিভিন্ন জায়গায় যান, বিভিন্ন মানুষের সাথে কথা বলেন, আপনার মত বিজনেস করছে এরকম মানুষের সাথে কথা বলেন, মার্কেট বুঝার চেষ্টা করেন, মার্কেট এ সেই প্রোডাক্ট এর ডিম্যান্ড আছে কিনা এগুলা প্রথমে ঠিক করে নেন। না হলে লিফলেট, পোস্টার ইত্যাদি ইত্যাদি কোন কাজে আসবে না, মানুষ হয়তো দেখবে কিন্তু তারা আপনাকে জানে না তাই আপনার কাছে কিনবে না এটাই স্বাভাবিক।

মানুষকে জানান আপনার কাজের কথা

আপনি কাজ করছেন, ভালো একটা সার্ভিস দিতে চাচ্ছেন সেটা মানুষকে দেখান, জানান, সেটার জন্য ফেসবুক চমৎকার একটা মিডিয়া হিসেবে কাজ করতে পারে, সবাই মিলে কাজ করছেন ফেসবুক এর পেজে দেন, কোন মিটিং এ যাচ্ছেন সেটা ও জানান কি উদ্দেশ্য আপনার। আপনার ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার কথা জানান কি করতে চান আপনি, কিভাবে করতে চান ইত্যাদি। পেজ ফ্যানদের কাছে জানতে চান কিভাবে করলে ভালো হবে, তারা কি চায়। আপনার প্রোডাক্ট সেল হলে চেষ্টা করেন ক্রেতাদের ফিডব্যাক পেজে শেয়ার করতে।

ফেসবুক এর বিভিন্ন গ্রুপ এ জয়েন করেন, প্রোডাক্ট এর পোস্ট শেয়ার করার জন্য না, নিজেকে চেনানোর জন্য। অনেকেই গ্রুপ এ জয়েন করে পোস্ট শেয়ার করে আর ব্লক হয়ে যায়। তাই নিজেকে চিনান। বিভিন্ন উপকারী পোস্ট করেন গ্রুপ এ, কমেন্ট করেন, যাদের দেখবেন গ্রুপে নিয়মিত কাজ করছে তাদের সাথে ব্যাক্তিগত ভাবে যোগাযোগ করেন, পরামর্শ চান। মোট কথা টাকার থেকে আপনার সময় ইনভেস্ট করেন বেশি।

 

 

Comments

comments

About The Author


আমি আরিফুল ইসলাম, গ্রাফিক ডিজাইন করি, আসলে গ্রাফিক ডিজাইন এর ট্রেইনার হিসেবে কাজ করতে বেশি ভালো লাগে। বর্তমানে আর্কেডিয়া আইটি ইন্সটিটিউট এ আছি হেড অফ গ্রাফিক ডিজাইন এ। লেখালিখি করতে ভালো লাগে, জেনেসিস ব্লগ এ লিখি গ্রাফিক ডিজাইন, আউটসোর্সিং ইত্যাদি বিষয়ে। এক বছর ধরে ফেসবুক মার্কেটিং, ভিডিও মার্কেটিং নিয়ে পড়াশুনা করছি, বেশ ভালো ও লাগছে, চেষ্টা থাকবে যা জানবো সেগুলি নিয়ে লিখতে। e-Cab কে অনেক ধন্যবাদ আমাকে এখানে লেখার সুযোগ করে দেয়ার জন্য। আশা করি ভালো কিছু লেখা দিতে পারবো।

No Comments

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *